মোঃ আক্তার হোসেন, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ দৈনিক৩৬জুলাই
বোরহানউদ্দিনে ভাইয়ে ভাইয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেজো ভাই ফারুকের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেন তার আপন ছোট ভাই আবদুল মন্নান (৩৫)। এর আগেও তার বড় ভাই নাসিরের বাসায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ছোট ভাই। এমনটাই অভিযোগ মেজো ভাইয়ের।
এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার বোরহানউদ্দিনের টবগী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের (রাস্তার মাথা) তমিজউদ্দিন দালাল বাড়ি। আবদুল রব (৭০) এর সন্তান আবদুল মন্নান ও ফারুক ৫ ভাইয়ের মধ্যে এরা দুই ভাই।
ফারুক (৪০) অভিযোগ করে বলেন, আমি কন্টেকদার,রাজ মিস্ত্রীর কাজ করি। চুক্তিতে আমার ভাই আবদুল মন্নান এর ছাদের কাজ করছি। সেখানে কিছু টাকা পাওনা আছি। লেবারের টাকা পরিশোধ করতে পারি নাই। এর মধ্যে আমি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হই। এখন আমি এক চোখে দেখি না। তাই ভাইর কাছে টাকা চাইতে গেছি। তখন সে টাকা দিতে অস্বীকার করে। কাজ বাকি আছে বলে আমার সেন্টারিং এর মালামাল আটকিয়ে রাখে। সেগুলো আনতে গেলে আমাকে গালিগালাজ করে, ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে। ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায়।আমার পকেটে থাকা বিশ হাজার পাঁচশত পঞ্চাশ টাকা নিয়া যায়। পরে বাবা মাসহ স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। উল্টো হয়রানির উদ্দেশ্যে আমার নামে এবং পৌর ৬নং ওয়ার্ডের আক্তার হোসেন, পৌর ৭নং ওয়া্ডের রাজমিস্ত্রী কামালের নামেও সে মামলা দেয় মহামান্য আদালতে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, আবদুল মন্নান উগ্র প্রকৃতির লোক। সে তার ভাই নাসিরের ঘরেও দা বটি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। প্রতিবেশীদের সাথে সামান্য বিষয় নিয়ে দা বটি নিয়ে তেড়ে যায়।
স্থানীয়রা আরো বলেন, মন্নান ও তার আগের বউ দুইজনে মাইমুনা নামক একটি শিশুকে দত্তক নেয়। এরই মধ্যে মন্নান পরকীয়ায় জড়িয়ে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে আসে। শিশুটি এখন মন্নানের বাবা মায়ের কাছে।
মাইমুনা (৭) বলেন, আমার পালক বাবা মন্নান আমাকে মাইরা দাদা দাদির নামে কেইস করব বলছে।
স্থানীয় দোকানদার মামলার স্বাক্ষী শাখাওয়াত হোসেন (শান্ত) বলেন, আমি হট্টগোলে শুনেছি দোকানে থাকার সুবাদে বাহির হয়ে দেখার সুযোগ হয়নি। আমি লোকমুখে শুনেছি আমাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে, তবে আমি উক্ত বিষয়ে কিছুই জানিনা।
পিতা আবদুর রব বলেন, আমার ৫ ছেলের মধ্যে ওরা দুইজন। আবদুল মন্নান আমাদেরও ঘরেও দা বটি নিয়ে দরজায় কোপ দিয়ে কাইটা দিছে। ওর ঘরের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চুক্তিতে ফারুক করে, ওদের মধ্যে লেনদেনের জামেলা ছিল। এরই মধ্যে ওই কাজ জামালকে দিয়ে করায়। তাই ফারুক সেন্টারিংয়ের মালামাল নিতে আসে। কিন্তু কিছু মালামাল সেখান থেকে আগেই সরিয়ে রাখে ছোট ছেলে। পরে এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে ফারুক এর মাথায় ইট মারে। সে মাটিতে পইরা যায়। পরে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়া যাই।
মামলার আরেক স্বাক্ষী জামাল বলেন, উক্ত বিষয়টি আমি কিছুই জানিনা, আমাকে মান্নান তার বাসার কাজ করতে বলেছেন, আমি কাজ করতেছি। তাদের ভাইদের মধ্যে কি নিয়ে ঝামেলা আমি কিছুই জানিনা। মামলার স্বাক্ষীর বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, আমি কিছু জানিনা মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে আমাকে বলেনি।
মা আনোয়ার বেগম বলেন, মন্নান উগ্রমেজাজী মহল্লার সকলের সাথে ঝামেলা করে, মন্নান আমাদেরকে হুমকি দেয়, তার পালক মেয়েকে হত্যা করে আমাদের নামে মামলা করবে। ফারুকের নামে মামলা করার জন্য ওর নিজের স্ত্রীর হাত কেটে বলে
ফারুক ওর স্ত্রীকে কোপ দিয়েছে যা সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। বউকে হুমকি দিয়েছে হাত না কাটলে সে বউকে ছেড়ে দিবো।
আক্তার হোসেন বলেন, ফারুক ভাই অসুস্থ এক চোখে দেখেন না। মালামাল আনতে যাওয়ার সময় আমাকে সাথে নিয়ে গেছেন। তার ভাই মালামাল আনতে বাধা দেওয়ায়, আমরা বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের সাহায্যে মালামাল নিয়ে আসি।
অপরদিকে, রাজমিস্ত্রি কামাল বলেন, আমি ফারুক ভাইর ফোরম্যান হিসেবে তার সাথে কাজ করি। তার ভাই আবদুল মন্নান আমাদের কাজের বিল না দেওয়ায়, তাদের ভাইদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায় ইট ছুড়ে মারলে ফারুক ভাইর মাথা ফেটে যায়। পরে আহত অবস্থায় বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আনি। কিন্তু আবদুল মন্নান অহেতুক আমাকে আসামি করে মামলা করেছেন।
বোরহানউদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।