এ ঘটনায় গ্রেফতারের পর শনিবার (১১ জুলাই) স্বামী সাইফুল ইসলামকে (২১) আদালতে পাঠায় পুলিশ। নিহত সানজিদা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্সের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে, ত শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ গোড়ান আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। রাতেই পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় সাইফুলকে।
নিহতের ভাই মো. চান মিয়া জানান, প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লার হোমনা থানার বাসিন্দা ও পেশায় ফুডপান্ডা ডেলিভারি রাইডার সাইফুলের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসার নিচতলায় ভাড়া ওঠেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মারিয়াকে তিনি বারবার ফোন দিচ্ছিলেন। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। তখন মারিয়ার স্বামী সাইফুলকে ফোন দিলে বাসায় গিয়ে দেখে আসতে বলে।
চান মিয়া আরও জানান, পরবর্তীতে স্বজনরা ওই বাসায় গিয়ে রান্নাঘর সংলগ্ন বারান্দার মেঝেতে মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় একটি কালো দাগ দেখতে পান। পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে খিলগাঁও থানা পুলিশের সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মাঝ রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
খিলগাঁও থানার পুলিশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির ছয় ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে গ্রেফতার স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
আরও জানানো হয়, সানজিদা আক্তার মারিয়াকে গলায় পাটের সুতলি পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যা আত্মহত্যা বলে প্রচারণা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে আজ শনিবার খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সাইফুলের বাবা-মাকে নিয়ে সাংসারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে.