July 31, 2026, 8:07 pm
শিরোনাম :
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতায় দোয়া মাহফিল সবুজ কুড়িগ্রাম গড়তে সবাইকে অন্তত একটি গাছ লাগাতে হবে’: জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ‎নাসিরনগরের ধরমন্ডলে জাল টাকার নোট সহ গ্রেপ্তার -১ নাসিরনগর উপজেলা যুব এসোসিয়েশন ঢাকার নতুন কমিটি গঠন, ‎ ‎নাসিরনগরে ১০৭ পিস ইয়াবা সহ এক নারী আটক ‎
নোটিশ :

শুধু টাকা খোঁজেন মাউশির পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নাজিম।

রিপোর্টারের নাম

বিশেষ প্রতিনিধি :–
দৈনিক ৩৬, জুলাই ঢাকা।

“সারাদিন এত ফাইলে স্বাক্ষর করি অথচ কোনো টাকা আসে না, গরমের মধ্যে টাই-কোট পড়ে বসে থাকি এর তো একটা পাওয়ার আছে তাইনা, অমুক কর্মকর্তা তুমি এই ফাইল থেকে কত টাকা নিয়েছো আমাকে তো দিলানা” – অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন খানের এই

অনামিকা মানবী, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: করোনাকালে (২০২০) রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি (যিনি রামপুরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো: লিয়াকত আলী) ও অভিভাবক সদস্য (যিনি রামপুরা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি) কে এম কামরুল ইসলাম লিটু মিলে কোনো নোটিশ না করেই বিএনপিপন্থী দশজন শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত করে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদি শাসনে মাউশি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে আদালতের নির্দেশে বহালের আদেশ পেলেও সেসময় তাদের স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশে শিক্ষা বোর্ডের আপিল কমিটি কোন রেজুলেশনের বলে এবং কি কারণে তাদের চাকুরিচ্যুতি করা হয়েছে সেই কাগজপত্র তলব করলে রেজুলেশনের পাতা কেটে আঠা দিয়ে নতুন পাতা সংযুক্ত করেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে পিবিআই রেজুলেশন ট্যাম্পারিংয়ের প্রমাণ উঠে আসে তদন্ত প্রতিবেদনে। সেই প্রতিবেদনের আলোকে গত ২০ মে ২০২৬ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষক হোসনে আরার বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালত।

এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো ২০২৫ এর ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হলে তিনি সাময়িক বরাখাস্ত হবেন। ২১ মে বিদ্যালয়টির শিক্ষক তাকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য মাউশিতে আবেদন করেন। সেই আবেদন বেশ কয়েকদিন পর মাউশির আইন শাখা বরখাস্ত করার মতামত দিলেও সেই ফাইল দিনের পর দিন আটকে রেখেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগের আমলের প্রভাবশালী প্রধান শিক্ষক এই হোসনে আরাকে বাঁচাতে মরিয়া মাউশির মাধ্যমিক শাখার শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন এবং মাধ্যমিকের পরিচালক প্রফেসর সাখাওয়াত হোসেন খান। নেপথ্যে মোটা অংকের আর্থিক ‘ডিল’।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু এই প্রধান শিক্ষকই নয় পাঁচ আগস্টের পর রাজধানী ঢাকা মহানগরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া (যারা আওয়ামী লীগের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল) প্রতিটি প্রধান শিক্ষক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন। প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন মাউশির শিবিরপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই প্রভাষক। যিনি ৩৬ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক।

শিক্ষা সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেহেরপুরের সদর উপজেলার হাতিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বিএড সনদ ছাড়া নিয়োগ নেওয়ায় এমপিও করেনি মাউশির খুলনা আঞ্চলিক উপ-পরিচালক। এরপর সেই ফাইল আসে মাউশিতে। বিএড সনদ ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষকের এমপিওভুক্তির সুযোগ না থাকলেও পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে এমপিওভুক্তির চিঠি করেন নাজিম উদ্দিন।

সর্বশেষ মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন তার নিজের গ্রামের অর্থ্যাৎ কুমিল্লার মুরাদনগরের ছৈনউদ্দিন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্মের সহকারী শিক্ষক মো. আইউব আলীর এমপিওভুক্তির চিঠি করে তিন লক্ষ টাকা নেন। এই টাকার এক লক্ষ টাকা পান মাধ্যমিকের পরিচালক প্রফেসর সাখাওয়াত হোসেন খান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাজিম উদ্দিন কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন, পটুয়াখালীর ভয়াং সরাফতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তদন্ত গিয়ে তিন লাখ টাকা, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজের চার শিক্ষকের এমপিওভুক্তের চিঠি করে ১০ লক্ষ টাকা, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার নাকাঢ় হাট শহীদ আ: জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের তদন্তে প্রতিবেদনে ৪ লাখ টাকা ময়মনসিংহের তারাকান্দার বড়ইপাড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষকের এমপিওভুক্তির চিঠি করে ২৭ লক্ষ টাকা আদায়, টাঙ্গাইলের সাগরদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের বকেয়া প্রদানের চিঠি করে (মোট বকেয়া- ১৭ লাখ টাকা) ৬ লাখ টাকা আদায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের আলেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা ও সামাজিক বিজ্ঞান দুই শিক্ষকের এমপিওভুক্তির আদেশের চিঠি করে ৬ লাখ টাকা আদায় করেছেন। পাঁচ আগস্টের পর অর্থ্যাৎ ২৪ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখের পর মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন পাওয়ার পর ডেক্স কর্মকর্তা হিসেবে যত শিক্ষকদের এমপিও স্টপ পেমেন্ট (MPO Stop Payment) চালু করা হয়েছে তাদের সবার কাছ থেকেই দুই লাখ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করেছেন তিনি। পদত্যাগে বাধ্য হওয়া আওয়ামী পন্থী প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে পুনর্বাহলের চিঠি করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের অর্থ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাজিম উদ্দিন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৩৬ তম ব্যাচের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক। দাখিল ও আলিম পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে জিয়া হলে উঠেন তিনি। দাখিল পড়া অবস্থাতেই শুরু করেন শিবিরের রাজনীতি। মাস্টার্সের পড়ার সময় শিবির করার দায়ে তাকে ব্যাপক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সেই থেকে তিনি এক কানে কম শুনেন বলে রেওয়াজ আছে। ২০১৮ সালে ৩৬ তম বিসিএসে প্রথম পদায়ন পান নোয়াখালী সরকারি কলেজে। মাত্র দশ মাসের মাথায় সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে মাউশিতে আসেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি মাউশি থেকে নরসিংদী সরকারি কলেজে বদলি হন। পাঁচ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হাত ধরে তিনি ২৪ আগস্ট মাউশির মাধ্যমিক উইংয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদায়ন নিয়ে এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছেন। অর্থ্যাৎ কর্মজীবনে মাত্র ১১ মাস ছিলেন ঢাকা শহরের বাহিরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির দায়ে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন তাকে তলব করে। শিক্ষা ক্যাডারে এখনও প্রভাষক পদে কর্মরত থাকা এই কর্মকর্তা বিধিবহির্ভুত আয় করেছেন কয়েক কোটি টাকা। রাজধানীর ডেমরার মাতুয়াইলের হাজী বাদশা মিয়া রোডের আজিজ খাঁন টাওয়ারে রয়েছে তাঁর চার টি ফ্লাট। এই প্রজেক্টে তিনি প্রতি ফ্লোরে বিক্রি করেছেন তার থাকা শেয়ার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩৬তম বিসিএসের একাধিক কর্মকর্তা শিক্ষা সংবাদ’কে বলেন, “৩৬ তম বিসিএসে হাজারের মত কর্মকর্তা আছে দপ্তরে ও বিভিন্ন সরকারি কলেজে। সবার সম্পদ একসাথে করলেও তার সম্পদের সমপরিমান হবে কি না সন্দেহ। এই বয়সে তিনি যেভাবে আঁখের গুছিয়েছেন বাকি কর্মজীবন হিসেবে করলে ক্যালকুলেটরে ধরবে না। তাঁরা বলেন, ছাত্রজীবনে শিবির করে, কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করে তিনি কিভাবে এই চেয়ারে বহাল থাকেন তা আমাদের মাথায় ধরে না। অথচ একই ব্যাচে ছাত্রদলের রাজনীতি করা কর্মকর্তারা সুযোগ পাচ্ছেন না ভালো কোনো পদে পদায়নের।”

শুধু নাজিম উদ্দিনই নয়, মাউশির মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন এই চেয়ারের দায়িত্ব পান ৩০ এপ্রিল। এই চেয়ারে বসার পর থেকেই তিনি টার্গেট নিয়েছেন মাসে অন্তত পঞ্চাশ লক্ষ টাকা আয়ের । নিজ জেলা নরসিংদী। মাউশিতে পদায়ন পাওয়ার ১৫ দিনের মাথায় তিনি নরসিংদীতে যান। যাওয়ার আগে চারটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করবেন মর্মে চিঠি ইস্যু করেন। বিদ্যালয়ের চারটি হলো, নরসিংদীর ব্ৰাহ্মন্দী কামিনী কিশোর মৌলিক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, সাটিরপাড়া কালী কুমার উচ্চ বিদ্যালয় ও মাধবদী এস. পি (সতী প্রসন্ন) ইনস্টিটিউশন। এই চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে গিয়ে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নিতে পারলেও বাকি দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো অর্থ না পেয়ে ঢাকায় ফেরেন তিনি। নরসিংদীর এক বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে দিয়ে ফোন করান। মাউশির মাধ্যমিকের ডিরেক্টর গেলো তাদের প্রতিষ্ঠানে তাঁরা ‘খাম’ দিল না কেন সেই বেসরকারি অধ্যক্ষকে দিয়ে দুই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তলব করানো হয়। বাধ্য হয়েই সেই দুই প্রতিষ্ঠান প্রধান ‘খাম’ দিয়ে যান। এছাড়া নসরিংদীতে নিজ বাসভবনে বসে লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার গৌতম চন্দ্র মিত্রের সঙ্গে ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক চুক্তি করেন অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন তাকে ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে পদায়ন করানোর জন্য।

জানা গেছে, প্রফেসর মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান ১৬ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের দর্শন বিষয়ের অধ্যাপক। ২০০১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিজ জেলা নরসিংদী সরকারি কলেজে চাকরি করেছেন। পাঁচ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাজধানীর পল্লবী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে আসীন হন। ছাত্র জীবনে কোনদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকা এই কর্মকর্তা ৩০ এপ্রিল মাউশির মাধ্যমিকের পরিচালক পদে পদায়ন পান। চাকরিজীবনে একদিনের জন্যও কোনো প্রশাসনিক পদে চাকরি না করা অধ্যাপক সাখাওয়াত মাউশির চেয়ারে বসেই শুরু করেন অর্থের সন্ধান।

“সারাদিন এত ফাইলে স্বাক্ষর করি অথচ কোনো টাকা আসে না, গরমের মধ্যে টাই-কোট পরে বসে থাকি এর তো একটা পাওয়ার আছে তাইনা, অমুক কর্মকর্তা তুমি এই ফাইল থেকে কত টাকা নিয়েছো আমাকে তো দিলানা” – অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন খানের এই বক্তব্যগুলো মাউশির মাধ্যমিক শাখার সবার মুখস্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা ক্যাডারের ১৪’শ ও ১৬’শ বিসিএসের কয়েকজন অধ্যাপক শিক্ষা সংবাদ’কে বলেন, যারা জীবনেও বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত ছিল না, তারাই এখন সুবিধা পাচ্ছে। আর যারা বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত রয়েছেন তারা হচ্ছেন বঞ্চিত। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন শিক্ষা সংবাদ’কে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। পরিচালক জানেন।’ তার মন্তব্য মতে, তার বিষয়ে উত্থাপিত সকল অভিযোগের বিষয় পরিচালক জানেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মাধ্যমিকের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান মুঠোফোনে কোন মন্তব্য করবেন না বলে জানান। তিনি তার দপ্তরে আসতে বলেন প্রতিবেদককে। তবে তার দপ্তরে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক শিক্ষা সংবাদ’কে বলেন, এ বিষয়ে সচিব স্যার ভালো বলতে পারবেন।

শিক্ষা সচিবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বদরুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেট একটি মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। যখন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার, ফাইল আটকে রাখা এবং লাখ লাখ টাকার “খাম বাণিজ্যের” মাধ্যমে জালিয়াতি ও জবরদখলকারী শিক্ষকদের সুরক্ষা দেন, তখন পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি ধসে পড়ে। আদর্শিক বা রাজনৈতিক খোলস পাল্টে বারবার পার পেয়ে যাওয়া এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় কোনো সংস্কারই সফল ভাবে হবে না।



আমাদের পেজ লাইক করুন