দৈনিক ৩৬ জুলাই
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
বৈষম্যহীন দেশ গড়তে দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব বাছাই করতে হবে বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)র ভিপি সাদিক কায়েম।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী’র সমর্থনে এবং ছাতক উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ছাতক বাজার ট্রাফিক পয়েন্টে আয়োজিত ছাত্র ও নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম আরোও বলেন, দিল্লি ও লন্ডনের প্রেসক্রিপশনের দিন শেষ, আগামীর বাংলাদেশ দাঁড়িপাল্লার ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ
ছাতক উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আকবর আলী’র সভাপতিত্বে ছাত্র ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য শাহিনুর রহমান, সর্বমিত্র চাকমা, সঙ্গীত শিল্পী মোহাম্মদ সালমান,
সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা: আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামি ছাত্রশিবির সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি মেহেদী হাসান তুহিন, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী,দোয়ারাবাজার উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা: হারুন অর রশীদ, সিলেট কোতোয়ালি থানা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল ইতিহাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের কল্যাণের সকল আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছে। আর সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা আজ ইনসাফের পক্ষ নিয়েছে, এই বাংলাদেশে এখন আর লন্ডনের প্রেস্কিপশন ও দিল্লির রাজত্ব চলবেনা। ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী কাঠামো আর চলবে না। কেউ করতে চাইলে খুনি হাসিনার যে পরিণতি হয়েছে, তার চেয়ে খারাপ পরিণতি হবে।
সাদিক কায়েম আরো বলেন, ‘অতীতে ভারত আমাদের অনেক জুলুম-নির্যাতন করেছে। ফ্যাসিস্টরা দিল্লির দালালিকে প্রশ্রয় দিয়েছিল। বিভিন্ন দল দেশের খেটে-খাওয়া মানুষদের মিথ্যা প্রলুভন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসে রক্ত চুষে খেয়েছে।
এই স্বাধীন বাংলাদেশে এখন আর সেই স্বৈরাচারী মনোভাবে চলবেনা। বাংলাদেশ চলবে দেশের মানুষের প্রত্যাশার ও শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে।
বাংলাদেশ পরিচালনা করতে হলে দেশের মাটি ও মানুষের নেতা হতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে গণমানুষের নেতা হতে হবে। কাজ ও যোগ্যতার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। তা না করে হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করতে চাইলে দেশের জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।
এ সময় তিনি ছাত্র ও নাগরিক সমাবেশে উপস্থিতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘এ ছাত্র নাগরিক সমাবেশে কোনো চাঁদাবাজ নেই, টেন্ডারবাজ নেই, ধর্ষক নেই। আগামীর বাংলাদেশকে চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। এই আসনের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী একজন যোগ্য ব্যক্তি। তাকে নির্বাচিত করে এই ছাতক-দোয়ারা অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির আন্দোলন করতে চাই। গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে অনেক শাসক এসেছে। আমরা অনেক নেতা নির্বাচন করেছি। কিন্তু এ অঞ্চলের মানুষের মুক্তি আসেনি।’
পরিশেষে তিনি জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেন।