নাজমুল হাসান ( নরসিংদী) প্রতিনিধি দৈনিক ৩৬জুলাই
নরসিংদী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কথিত ঠিকাদার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্য, মিনি ঠিকাদার নিয়োগের নামে ঘুষ গ্রহণ, পল্লীবিদ্যুতের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক খুঁটি বিক্রি, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং লাইনম্যানদের পদোন্নতির নামে অর্থ আদায় সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান,আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পূর্ববর্তী সময়ে আবুল কাশেম নিজেকে শিল্পমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এর ভাতিজা পরিচয় দিয়ে পদোন্নতি, নিয়োগ, ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বিগত সরকারের পতনের কিছুদিন আগে তিনি মরজাল জোনাল অফিসের সাবেক ডিজিএম মাজহারুল ইসলাম ও চরশুবুদ্ধি সাব-অফিসের সাবেক এজিএম আজিজুল ইসলাম -এর আত্মীয়দের চাকুরি দেওয়ার নাম করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেন।তাছাড়া কুলিয়ারচর জোনাল অফিসের ক্যাশিয়ার পারভীনকে পবিস নরসিংদী সদরে বদলীর কথা বলে এক লক্ষ টাকা নিয়ে তাকে বদলী না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন।
তাছাড়া মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কতিপয় গ্রাহকদের নরসিংদীর দাসপাড়া ফিডার থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডিসি ফিডার থেকে সংযোগ দেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি কথিত ঠিকাদার আবুল কাশেমের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে পবিস-২ এর সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রণি ইসলাম ও গোকুল সরকার তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
তাছাড়া তার নিজস্ব কোন ঠিকাদারি লাইসেন্স না থাকলেও নিজেকে ঠিকাদারি সংগঠনের সভাপতি দাবি করে মিনি ঠিকাদার নিয়োগের নামে ঘুষ গ্রহন ও চড়া দামে ট্রান্সফরমার বিক্রি করে গ্রাহকদের প্রতারিত করে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
সর্বশেষ, গত ৬ অক্টোবর লাইনম্যানদের পদোন্নতি পরীক্ষায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তার পছন্দের প্রার্থীদের
পদোন্নতি পাইয়ে দিয়ে পবিস-২ এ তার একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা জানান দেন।
নরসিংদী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জিএম- আব্দুল কুদ্দুছ
এর কাছে কাশেমের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ইতোপূর্বে লিখিত অভিযোগের পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
আবুল কাশেমের সকল অপকর্ম জানার পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় পবিস-২ এর বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে ।
তাই যে কোন বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার পূর্বে কথিত ভুয়া ঠিকাদার আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নরসিংদী পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ
তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।