স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক ৩৬ জুলাই
নারায়ণগঞ্জ, ১১ অক্টোবর ২০২৫:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নাসিক ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলবাগ (সাবেক মাজিপাড়া) এলাকার সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ অনুযায়ী, থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছেন।
গত বুধবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই রাশেদ, গৌরাঙ্গ বাবু, কামরুল ও নূরসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়মিতভাবে মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।”
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা আরও জানান,
> “পুলিশ আসামি ধরার পর গাড়িতে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এরপর আসামির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে টাকা আদায় করে মুক্তি দেয়।”
অভিযোগ রয়েছে, শুধু ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদেরই আটক রাখা হচ্ছে; বাকিদের ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে সহজেই মুক্তি মিলছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের আগস্টে পুলিশ কিছুদিন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আগের চেয়েও খারাপ।
তাদের ভাষায়,
> “সরকার যেখানে মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে, সেখানে পুলিশের ঘুষের বিনিময়ে আসামি ছাড়া সমাজে মাদক আরও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে তারা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ শাহিনুর আলম এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—
“এইসব অপকর্ম কি ওসি মোঃ শাহিনুর আলমের নির্দেশেই চলছে?”
অভিযোগ রয়েছে, ওসি শাহিনুর আলমের ঘনিষ্ঠ কিছু তথাকথিত সোর্স— আলামিন ও সাগরের মাধ্যমে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জসিম ও সালামকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জসিম ও সালাম আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজী, পাগলা বাড়ি, কেলান পাড় ও চান টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় তাদের মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।