ঢাকা, ৬ অক্টোবর │ দৈনিক ৩৬ জুলাই
বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি :
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল কর্তৃক পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এ ঘটনার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে।
বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বি বলেন,
“কুরআন শরীফে বলা হয়েছে — ‘লাকুম দী নুকুম ওয়ালিয়াদীন’, অর্থাৎ ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের, আমাদের ধর্ম আমাদের’। আমরা এই আয়াতের শিক্ষার আলোকে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির যে অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছি, তা সারা বিশ্বে বিরল। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল বারবার সেই সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই অপূর্ব পাল সেই চক্রান্তের অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছি, কারণ ইসলাম কখনো সহিংসতার শিক্ষা দেয় না। তবে, রাষ্ট্রের উচিত এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”
সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রিফাত বলেন,
“বাংলাদেশে রাসূল (সা.) বা কুরআনের অবমাননার এটি প্রথম ঘটনা নয়। দেশে কোনো কার্যকর ব্লাসফেমি আইন না থাকায় কিছু মানুষ বারবার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সাহস পাচ্ছে। আমরা চাই, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যেন কেউ ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সাহস না পায়।”
এছাড়াও আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বক্তব্যে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সকল ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেউ যদি অন্য ধর্মের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করে, তবে তাকে কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত অপূর্ব পালের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান এবং ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক ও বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে তারা সরকার ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানাতে চেয়েছেন।
প্রতিবাদ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।