October 28, 2026, 10:18 am
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

দীর্ঘ ৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন:

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

শরীফুল আলম ও মাজহারুল ইসলাম বিপুল ভোটে বিজয়ী

 

 

 

মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল,
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক ৩৬জুলাই

 

 

 

 

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো দীর্ঘ নয় বছরের প্রতীক্ষার পর। সম্মেলনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গতকাল শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম।
সভাপতি পদে মোঃ শরীফুল আলমের দুর্দান্ত জয়৷
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে মোঃ শরীফুল আলম পেয়েছেন মোট ১৫২২ ভোট, যা ছিল প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুহুল হোসাইন পেয়েছেন মাত্র ১৯৭ ভোট।
বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে শরীফুল আলম জানান,
> “এই বিজয় আমার একার নয়, এটি পুরো জেলার নেতাকর্মীদের বিজয়। আমি তাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করে তুলবো।”
জেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, শরীফুল আলমের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ত্যাগ, আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সৎ নেতৃত্বই তাকে এই বিপুল সমর্থন এনে দিয়েছেন৷
সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলেন মোঃ মাজহারুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে।
এতে মোঃ মাজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ১১৫৯ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল পেয়েছেন ৬১১ ভোট।
মাজহারুল ইসলাম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
> “আমি দলকে ভালোবাসি, দলই আমার পরিবার। এই বিজয় আমাকে দায়িত্বশীল করে তুলেছে। আমি চাই সবাইকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপিকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে।”
তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে জেলা বিএনপি সুসংগঠিত হবে এবং মাঠ পর্যায়ে দলের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবহার করা হয় আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া।
প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপস্থিতিতে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
পুরো সময়জুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের ঢল নামে সম্মেলনস্থলে। সকালের দিকেই ভিড় জমতে শুরু করে, যা দুপুরের দিকে আরও বেড়ে যায়।
ভোটারদের মাঝে ছিলো প্রচণ্ড উৎসাহ, অনেকে পতাকা, ব্যানার, পোস্টার নিয়ে মিছিল-স্লোগানেও অংশ নেন।
ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় জেলাব্যাপী জোরালো উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
একাধিক নেতাকর্মী বলেন,

> “দীর্ঘ ৯ বছর পর আমরা নতুন নেতৃত্ব পেয়েছি। এই নেতৃত্বের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি নতুন দিগন্তে পৌঁছাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
দলের একজন প্রবীণ নেতা বলেন,

> “এই সম্মেলন প্রমাণ করে বিএনপি এখনো তৃণমূল পর্যায়ে কতটা সংগঠিত। জনভিত্তির রাজনীতিতে এই সম্মেলন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,
এই সম্মেলন শুধু নেতৃত্ব বাছাইয়ের অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি ছিল দলের নতুন প্রাণসঞ্চার ও ঐক্য পুনর্গঠনের একটি বড় উপলক্ষ।
তারা বলছেন,

“বর্তমান সময়ে একটি রাজনৈতিক দল যখন বারবার বাধার মুখে পড়ে, তখন এমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন একটি সাহসী ও ইতিবাচক বার্তা দেয়।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন আশা ও আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
নতুন সভাপতি মোঃ শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাজহারুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে সংগঠন আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা দলের প্রতিটি স্তরের।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। সেই সম্মেলনের পর নানা কারণে আর সম্মেলন হয়নি। এবার সফল সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ হলো বলে মনে করছেন সবাই।



আমাদের পেজ লাইক করুন