কাশেম হাওলাদার
বরগুনা প্রতিনিধি: প্রতিনিধি দৈনিক৩৬জুলাই
বরগুনায় নিজ ঘর থেকে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ ও স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম উপস্থিত রয়েছে তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার ৫ নম্বর আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইটবারিয়া এলাকার মোল্লা বাড়িতে থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নারীর নাম আকলিমা বেগম (২৭)। তিনি বরগুনার দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের আব্বাস মৃধার মেয়ে। স্বামী মো. স্বপন মোল্লা (৩২), পেশায় দিনমজুর। স্বপন একই গ্রামের খালেক মোল্লার ছেলে। নিহত দম্পতির সংসারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের নাম সাদিয়া (৬) এবং ছোট মেয়ের নাম আফসানা (১)।
নিহত স্বপনের চাচাতো বোন রাজিয়া বেগম জানান, ভোরে ওজু করার জন্য ঘুম থেকে উঠে বাইরে নামতেই বড় মেয়ে সাদিয়া দৌড়ে এসে বলে, ‘আম্মু, আমাদের ঘরে চলেন। মা কিছু বলছে না। আব্বাকেও দেখি না।’ এরপর আমি ঘরে গিয়ে দেখি, আকলিমার গলাকাটা রক্তমাখা মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। তখন স্বপনকে খুঁজতে গিয়ে দেখি, বিছানার পাশে মোবাইল পড়ে আছে। ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখি, আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় স্বপনের মরদেহ ঝুলছে।
নিহত স্বপনের বড় ভাই কবির মোল্লা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। তবে তাদের দাম্পত্য জীবনে মাঝেমধ্যেই কলহ হতো। স্বপন নিয়মিত কাজ না করায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব ও ঝগড়া লেগে থাকত।
এবিষয়ে নিহত আকলিমার বাবা আব্বাস মৃধা বলেন, ঘটনাটি পারিবারিক কলহের কারণে ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত কার্যক্রমে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ঘটনাস্থলটি ক্রাইম সিন হিসেবে চিহ্নিত করে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সেখানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।