জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক৩৬জুলাই
কিশোরগঞ্জ, ১ সেপ্টেম্বর:
কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এক হৃদরোগীকে লাথি মেরে আহত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এরই মধ্যে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
শহরের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা মো. মহসিন (৬৫) দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তিনি আবারও জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য যান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, মেয়ে ও ভাতিজা।
স্বজনদের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহবুব আলম মিলন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না করে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বলেন। এতে অসন্তোষ দেখা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে রোগী মহসিনকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ। এতে তার বাঁ উরুতে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করেন।
রোগী ও স্বজনদের বর্ণনা
আহত রোগী মো. মহসিন জানান,
> “হার্টের অসুখে ভুগছি অনেকদিন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে টেস্ট ও ওষুধে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। আবার ভর্তি হতে গেলে ডাক্তার ক্লিনিকে যাওয়ার কথা বলেন। আমরা কিছু বলতেই তিনি আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেন।”
মামলার বাদী, রোগীর ছেলে মো. শোলক বলেন,
> “আমার বাবাকে লাথি মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। মা ও বোনকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে। এখন ডাক্তার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইছেন। কিন্তু আমরা এর বিচার চাই। এটি সাধারণ ঘটনা নয়—একজন রোগীকে এমনভাবে মারধর করা মানবতাবিরোধী।”
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহবুব আলম মিলন এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন,
> “রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে শুধু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমি কাউকে লাথি মারিনি। বিষয়টি থানা থেকেই মীমাংসা হয়ে গেছে।”
হাসপাতালের প্রতিক্রিয়া
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নাছিরুজ্জামান বলেন,
> “ঘটনার বিষয়ে আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,
> “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।,
পূর্বের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি?
উল্লেখ্য, এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে এর আগেও চিকিৎসকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভুল চিকিৎসার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। জনসাধারণের একটি বড় অংশের মতে, দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণেই এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।
সমাজ কী বার্তা পাচ্ছে?
এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক অসুস্থ বাস্তবতা আবারও সামনে এলো। চিকিৎসাসেবা যেখানে সর্বোচ্চ মানবিকতা দাবি করে, সেখানে একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর সঙ্গে এমন আচরণ প্রশ্ন তোলে চিকিৎসকদের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে।
এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন ও হাসপাতাল কতটা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।