October 28, 2026, 2:28 pm
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

পাগলা মসজিদে দান বাক্মে পাওয়া গেল ৩২ বস্তা টাকা!!

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

 

জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক৩৬জুলাই

 

 

 

কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে আবারও বিস্ময়কর পরিমাণ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। ৩০ আগস্ট, শনিবার সকালে মসজিদের ১৪টি দানবাক্স খুলে ৩২ বস্তায় পাওয়া গেছে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়াও পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণালঙ্কার।
রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী গণনার অগ্রগতি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গণনা শুরু হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনও গণনার কাজ চলছে এবং বাকী অর্থের পরিমাণও দ্রুত নির্ধারণ হবে।
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ: দান সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু
কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত এই পাগলা মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও খ্যাত। মসজিদের দানবাক্সগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের দান করা অর্থ জমা হয়ে আসছে। ধারণা করা হয়, প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এসে দান করে যাচ্ছে, তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী দান করলে তাদের মনোবাসনা পূর্ণ হয়।
এক সময় এখানে একটি আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের আস্তানা ছিল। তার মৃত্যু পরবর্তী সময় থেকেই এ মসজিদে মানত এবং দানের ধারা শুরু হয়। বর্তমানে প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন স্থান থেকে মুসলিম এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দান নিয়ে মসজিদে আসেন। এ জায়গাটি আজ কিশোরগঞ্জের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।
গণনার কাজে প্রায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ
এই দানবাক্সগুলোর গণনার কাজে প্রায় ৪০০ জনের একটি বিশাল দল অংশ নিয়েছে। মসজিদ কমিটির সদস্যরা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীসহ বহু স্বেচ্ছাসেবক এতে সাহায্য করছেন। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজাবে রহমত এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী।
মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণে বিশাল উদ্যোগ
পাগলা মসজিদের আয় থেকে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্স। এই কমপ্লেক্সে ৩০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। নির্মাণের প্রাথমিক খরচ হিসেবে ১১৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পুরোপুরি একটি আধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হবে।
সমাজসেবায় ব্যবহৃত দানের অর্থ
পাগলা মসজিদের দান থেকে প্রাপ্ত অর্থ শুধু মসজিদ ও মাদ্রাসা উন্নয়নের জন্য নয়, বরং এটি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও ব্যবহৃত হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককে সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল।
গত বছরের রেকর্ড ভাঙলো
এর আগে, গত ১২ এপ্রিল মসজিদের ১১টি দানবাক্স খুলে প্রায় ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছিল, যা ছিল এক অভূতপূর্ব রেকর্ড। তবে এবার ৩২ বস্তায় পাওয়া ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে, এবং গণনার কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মসজিদ ও কমপ্লেক্সের আয় থেকে স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা ছাড়াও সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে মসজিদের আয়ের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সহযোগিতা করা হয়েছে।
এভাবে, পাগলা মসজিদ শুধু ধর্মীয় উপাসনার জায়গা নয়, একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ার অন্যতম শক্তি হয়ে উঠছে, যেখানে দান, স্বেচ্ছাসেবিতা এবং সমাজসেবার মাধ্যমে বৃহত্তর কল্যাণের পথ সুগম হচ্ছে।



আমাদের পেজ লাইক করুন