আসাদুজ্জামান,প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম:১৫.৮.২৫
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সাবেক এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতার নাম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে ওবায়দুল ইসলাম একাই পাঁচটি কক্ষ দখলে রেখেছেন। সেখানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকছেন। প্রথম স্ত্রী থাকেন পুরোনো বাড়িতে। আশ্রয়ণের কক্ষে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তিনি সেখানে অতিরিক্ত একটি ঘর নির্মাণ করছেন । এখন তিনি ওই কক্ষগুলোর দেয়াল ভেঙে নতুনভাবে ঘর তৈরি করছেন। কেউ আপত্তি জানালে ভয়ভীতি দেখান। আশ্রয়ণের কক্ষে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তিনি সেখানে অতিরিক্ত একটি ঘর নির্মাণ করছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে চিলমারী ইউনিয়নের মধ্য কড়াইবরিশাল চরে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’ এর আওতায় ৩৫টি ব্যারাকে ১৭৫টি কক্ষ নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি কক্ষ নদীভাঙনে গৃহহারা একটি করে পরিবারের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এর মধ্যে অনেক ঘরই দখল হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যারাকবাসী জানান, ওবায়দুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঘরগুলো দখল করে রয়েছেন। তিনি কক্ষগুলোর দেয়াল ভেঙে নিজের মতো করে ঘর বানাচ্ছেন। কেউ বাধা দিলে হুমকি-ধমকি দেন।
সরকারি ঘর দখল করে সাবেক এ বিএনপি নেতার এমন কার্যক্রমে প্রকৃত নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আশ্রয়ণের ঘরগুলো এখনো বরাদ্দ হয়নি। বরাদ্দ হলে আমিও ঘর পাব। তাই বর্তমানে থাকার জন্য মেরামত করছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য এরশাদুল হক বলেন, ‘এখনো আশ্রয়ণের ঘরগুলো হস্তান্তর হয়নি। এর মধ্যেই সব দখল হয়ে গেছে। ওবায়দুল যা করছে, তা মোটেও ঠিক নয়। তিনি এই ভাবে ঘরের দেয়াল ভাঙতে পারে না।’
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তরের আগেই অনেকেই দখল নিয়েছেন। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টা অবগত করেছি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে জেনেছি। রোববার স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ডেকে একটি একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’