নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক ৩৬ জুলাই
প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৫
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর কুর্মিটোলা বিমানবন্দর দিয়ে ভারতের উদ্দেশে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পালিয়ে যাওয়ার সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে সারাদেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ এক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিপর্যয়—বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভেতরে সক্রিয় ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর একটি ছায়া নেটওয়ার্ক!
এয়ার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের অনুসন্ধানে উঠে আসে, শেখ হাসিনার পলায়নের একমাত্র ভাইরাল ভিডিওটি ধারণ করেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী। ভিডিও ছড়িয়ে দেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরি। দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। রিফাতের অফিসের জানালা থেকেই সি-১৩০ জে বিমানে উঠার সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা হয়।
রিফাতের মোবাইল ফরেনসিক বিশ্লেষণের সময় তদন্তকারীরা সংযোগ খুঁজে পান স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ-এর সঙ্গে। তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ:
আলতাফের স্বীকারোক্তি ও তদন্তে আরও ৬ জন উচ্চপদস্থ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাকে শনাক্ত করা হয়, যাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়:
এয়ার ফোর্সের পাশাপাশি একই তদন্তে জড়িয়ে পড়ে পুলিশের চার কর্মকর্তা, যাদের ‘পারমানেন্ট সাসপেন্ড’ দেখানো হয়েছে:
তাদের স্টেশন মাস্টার ছিলেন গুলশান ডিবির এসি ইফতেখার মাহমুদ, যিনি ছিলেন আলতাফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও র-এর সহায়ক।
তদন্তে উঠে আসে, ‘র’ এজেন্ট হিসেবে কাজ করায় আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফকে উপহার দেওয়া হয় একটি নতুন হুন্দাই গাড়ি এবং তার কাছে নিয়মিতভাবে পাঠানো হতো সুন্দরী নারী—যারা তাকে তথ্য জোগাড় ও মানসিক প্রভাবিত করায় সহায়তা করতো।
একটি ভাইরাল ভিডিও থেকেই যে বিশাল নেটওয়ার্কের পর্দা উঠে যাবে, তা কল্পনাও করেনি দেশের গোয়েন্দা মহল। শেখ হাসিনার পলায়নের মুহূর্ত ধারণ করতে গিয়ে ‘র’-এর ছায়া এজেন্টরা নিজেদেরকেই প্রকাশ করে ফেললো।
দৈনিক ৩৬ জুলাই-এর পক্ষ থেকে এই তদন্ত প্রতিবেদন চালিয়ে যাচ্ছি। আপনি যদি এ সংক্রান্ত আরও তথ্য বা প্রমাণ চান, আমাদের হটলাইন বা ইনবক্সে জানাতে পারেন।
📞 যোগাযোগ:
www.daynik36july.com
contact@daynik36july.com
Facebook: fb.com/daynik36july