আক্তার হোসেন
বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রতিনিধি
প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে অস্বীকার, অধিকার চাইতে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার কর্তৃক হামলা।
ভোলা জেলা বোরহানউদ্দিন উপজেলা কুতুবা ০৩ নং ওয়ার্ড ছোট মানিকা মিস্ত্রি বাড়ি মোঃ বাহার উদ্দিন(৩৫) পস্ত্রী তাঁরাবাণু ও মেয়েকে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের দ্বারা নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তবোগী নারী তাঁরাবাণু সাংবাদিকদের বলেন, বাহারের সাথে আমার ঢাকায় মিরপুর থেকে পরিচয় সে গাড়ি চালাতো আমাদের পাসের রুমে থাকতো সেখান থেকে আমাদের পরিচয় তারপরে আমার সাথে সম্পর্ক করে আমাকে বিয়ে করেন, বিয়ের আগে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে এতিম ও অনাথ বলে পরিচয় দেন। বিষয়টি নিয়ে আমার পরিবার আপত্তি করলে দীর্ঘদিন আমার বাবা মায়ের কাছে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেন।
কুরআন মাথায় নিয়ে শপথ করেন, আমার বাবা মায়ের সামনে এসব দেখে আমার বাবা মা ওকে বিশ্বাস করে আমাদের বিয়ে দেন। বিয়ের পরে বছর খানিক ভালোই ছিলাম ও কাজের ফাঁকে ফাঁকে আসাযাওয়া করতো। ওর একার ইনকামে পরিবার চালানো কষ্ট হওয়াতে তাই দু’জনে মিলে সিদ্ধান্ত নেই আমি বিদেশে যাব। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১৯ সালে আমি প্রবাসে যাই, আমি প্রবাসে থাকা কালিন আমার স্বামী কাছে টাকা পাঠাই আমার স্বামী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিকাশ নাম্বারে টাকা আনতো। আমি টাকা কি করে জানতে চাইলে আমাকে বলে সে জমি কিনে ঘর তৈরি করতেছে, এবং বিভিন্ন সময় আমাকে ঘরের ছবি দেখায়।
আমি ওর কথা বিশ্বাস করে সব সময় ওর কাছে টাকা পাঠাইতাম।
আমি ২০১৯ সালে দেশে আসার কথা শুনে মোবাইল বন্ধ করে গা-ঢাকা দেয়, তার পরে আমি বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ব্যার্থ হই। কিছুদিন আগে আমি ওর দ্বিতীয় স্ত্রীর মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে যোগাযোগ করলে তারা দুজনেই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে পরে আমি তার বাড়ির ঠিকানা যোগাড় করে তার বাড়িতে আসলে স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যান সাথে যোগাযোগ করে তার বাড়ি এসে উঠি। পরবর্তী আমার স্বামী দুজনকে সমান অধিকার দিবে বলে সান্ত্বনা দিয়ে আমাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়।
আমি ঢাকায় যাওয়ার বেশ কিছু দিন পরে আমাকে ফোন করে বলে আমার কাছে একটা পার্সেল পাঠিয়েছে, কিন্তু সেই পার্সেল আমার কাছে পৌছায়নি। পরবর্তী তার সাথে আমার কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমি তাকে আমার ও আমার মেয়ের বিষয়ে ফয়সালা করতে বললে সে আমাকে তালাক দিয়েছে বলে জানান, যদিও আমি তালাক নামা হাতে পাইনি। উক্ত বিষয়ে আমি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে আসলে আমার স্বামী, তার দ্বিতীয় স্ত্রী, ও তার শাশুড়ী মিলে আমাকে ও আমার মেয়েকে মারধর করে, একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আমার সতীনের বাবা আমাকে ও আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
স্থানীয়রা বাহার উদ্দিনের ভয়ে কিছু বলতে সাহস করছেনা, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা এক নারী আমাদের মোবাইল ফোনে জানান। সকালে ওই মহিলা বাড়ি এসে তাদের সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলেন। কথা বলার এক পর্যায় বাহার উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী ওই নারীর উপরে হামলা করে তাকে মারধোর শুরু করে তারমধ্যে হটাৎ তার শাশুড়ী এসে ওই নারীকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় লাথি মারলে সে মাটিতে লুটিয়ে পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তার পরে তার সাথে কথা ১১ বছরের মেয়েটাকেও মারধোর করে স্থানীয়দের উপস্থিত লক্ষ করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়
উক্ত বিষয়ে আমি প্রশাসন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে আমার উপরে করা নির্যাতনের বিচার ও আমার মেয়ের পিতার অধিকার ফিরে পেতে সকলের কাছে অনুরোধ করছি।
ভুক্তবোগীর স্বামীর কাছে উক্ত বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন ওই মেয়ের সাথে আমাকে জোরকরে বিয়ে দেওয়া হয়, যেহেতু বিয়ে হয়েছে তাই আমি সকল বিষয় মেনে নিয়ে সংসার করতে শুরু করি বিয়ের ৩ থেকে ৪ মাস পরে হটাৎ মেয়ে কোথায় হাড়িয়ে যায় আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনা। আমি ওর খবর নেওয়ার চেষ্টা করতেছি পাইনি হটাৎ একদিন রাস্তায় ওর বোনের সাথে দেখা হলে ওর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন ও বিদেশে চলে গেছে এই বলে তিনি চলে যান। হটাৎ করে ৭/৮ মাস আগ থেকে আমার নাম্বার সংগ্রহ করে আমাকে নানান ভাবে হুমকি ধামকি দেয়। তবে প্রবাসে থাকা কালিন ও আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। টাকার বিষয়টি সম্পুর্ন মিথ্যা।