জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: দৈনিক৩৬জুলাই
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তারাপাশায় অবস্থিত আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে আবারও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ উঠেছে জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশ অমান্য করে পাঁচজন নিয়মিত শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখার।
ঘটনার পটভূমি
বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ চলে আসছে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিককে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সাময়িক বরখাস্ত করেছিল।
বরখাস্ত আদেশ নং: ৩৭.০২.০০০০.১০১.৩৭.০০৮.২২-৪৬৭
তারিখ: ১৫/০৩/২০২৪
অভিযোগ:
শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম
আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব
কর্তৃত্ববাদী আচরণ
তবে অজ্ঞাত ‘উচ্চ মহলের’ সুপারিশে তিনি পুনরায় পদে ফিরলে বিদ্যালয়ে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
শিক্ষকদের বক্তব্য
জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচজন শিক্ষক পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও প্রধান শিক্ষক তাদের শ্রেণিকক্ষে পাঠানোর অনুমতি দেননি।
একজন ক্ষুব্ধ শিক্ষক বলেন:
“আমরা সরকারি আদেশ হাতে নিয়ে স্কুলে গিয়েছি, কিন্তু প্রধান শিক্ষক গেট বন্ধ করে আমাদের ক্লাসে ঢুকতে দেননি। এটা চরম অপমান।”
আরেকজন শিক্ষক বলেন:
“শুধুমাত্র ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চাই।”
অভিভাবক ও স্থানীয়দের উদ্বেগ
বিদ্যালয়ের চলমান অস্থিরতায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীও উদ্বিগ্ন।
একজন অভিভাবক জানান:
“আমার সন্তানের ইংরেজি ক্লাস তিন সপ্তাহেও হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে ওদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”
স্থানীয় সমাজকর্মী আনোয়ার হোসেন বলেন:
“এই প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছেমতো স্কুল চালাচ্ছেন। এখনই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
জেলা শিক্ষা অফিসের প্রতিক্রিয়া
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, “পাঁচজন শিক্ষককে পাঠদানে অংশগ্রহণের জন্য লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক যদি আদেশ অমান্য করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিষয়টি ইতোমধ্যে মাউশি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপও নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
একজন প্রধান শিক্ষক যখন নিয়ম ভেঙে একচ্ছত্র ক্ষমতার ব্যবহার করেন, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিণত হয় সংঘাতের কেন্দ্রে। পাঠদান বন্ধ থাকায় আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত, অভিভাবকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং শিক্ষার পরিবেশ বিপর্যস্ত।
শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর জোর দাবি:
তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
www.daynik36july.com