কাশেম হাওলাদার
বরগুনা প্রতিনিধি: দৈনিক৩৬জুলাই
বরগুনার আমতলী উপজেলার পাতাকাটা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সাজেদা বেগম (৫৫)–কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী তৈয়ব হাওলাদার (৬৫)–এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমতলীর চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাজেদা বেগম গুলিশাখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা এলাকার মৃত মোক্তার আলী খানের মেয়ে। প্রায় ৩০ বছর আগে তার বিয়ে হয় পাতাকাটা গ্রামের মৃত লতিফ হাওলাদারের ছেলে তৈয়ব হাওলাদারের সঙ্গে। তাদের সংসারে মরিয়ম বেগম ও কুলসুম নামে দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের উভয়েই বিবাহিত।
ঘটনার রাতে মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তৈয়ব হাওলাদার নিজেই স্ত্রীকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে বড় মেয়ে মরিয়ম বেগম হাসপাতালে ছুটে গেলে তৈয়ব হাওলাদার তার হাতে চিকিৎসার জন্য ৩ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ।
রাত ১টার দিকে সাজেদা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। তবে পথেই রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
রবিবার (২০ জুলাই) সকালে খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের মেয়ে মরিয়ম বেগম বলেন, “আমার বাবা তৈয়ব হাওলাদার খুব রাগী মানুষ। সবসময় মাথা গরম থাকে। কী কারণে তিনি মাকে পিটিয়েছেন, তা আমরা জানি না।” তবে বাবার বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক লুনা বিনতে হক বলেন, “রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী পাঠানো হয়।”
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত তৈয়ব হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
www.daynik36july.com