October 28, 2026, 9:09 am
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

শিশুর দুই হাত ও পা হারানোর দায়ে ‘ভুল চিকিৎসক’ স্যাকমো শফিক গ্রেপ্তার

মোঃ আকতার হোসেন
Oplus_0

 

মো. আকতার হোসেন, ভোলা বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৫,

 

 

 

ভোলার বোরহানউদ্দিনের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর DMF, ডাক্তার স্যাকমো শফিকুল ইসলামের ‘ভুল চিকিৎসায়’ তানভীর (৮) নামে এক শিশু চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে—এমন অভিযোগে আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে শিশুটি ঢামেক বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সাথে লড়ছে।

ঘটনাপ্রবাহ:

ভুক্তভোগী তানভীরের পরিবার জানায়, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জ্বর নিয়ে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে ‘আকিব মেডিকেল হল’ এর মালিকের পরামর্শে তারা স্যাকমো শফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত চেম্বারে ছেলেকে চিকিৎসা করাতে নেন। সেখানে শফিকুল ‘ডেঙ্গু হয়েছে’ মর্মে চারটি ইনজেকশন দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুর শরীরে কালো দাগ দেখা দেয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

পরবর্তী এক মাসেরও বেশি সময় ভোলা সদর, বরিশাল শেবাচিম, কিওর স্পেশালাইজড ও শিশু হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ঢামেক চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির জীবন বাঁচাতে তার দুই হাতের কবজি ও একটি পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে।

আদালত ও মামলার অগ্রগতি:

তানভীরের মা আদালতে মামলা দায়ের করলে, আদালত তা আমলে নিয়ে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ অভিযুক্ত স্যাকমো শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগী পিতার আর্তি:

তানভীরের বাবা মোসলেম বলেন,

> “আমি একজন দরিদ্র কৃষক। আমার ছেলের চিকিৎসায় ইতিমধ্যে ৯ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। আরও অন্তত ৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কোথা থেকে টাকা আনবো জানি না।”

 

তিনি জানান, চিকিৎসার ভুলের কথা তুলে ধরতেই শফিকুল ও মেডিসিন দোকানি আকিব তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানির চেষ্টা করছে।

অভিযুক্ত শফিকুলের দাবি:

স্যাকমো শফিকুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,

> “শিশুটির সারা গায়ে ফোরা, এলার্জি, জ্বর ও খিচুনি ছিলো। আমি কেবল জ্বরের চিকিৎসা দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মন্তব্য:

বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. কে.এম. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন,

> “ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার যৌক্তিকতা নেই। যে ইনজেকশনটি প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা একটি রেয়ার রিঅ্যাকশনের কারণ হতে পারে।”

 

🔗 সম্পাদকের মন্তব্য:
একটি ছোট শিশুর জীবনের অপূরণীয় ক্ষতির দায় এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুমোদনবিহীন চেম্বার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

আপনার অভিযোগ জানাতে বা তথ্য দিতে যোগাযোগ করুন:

news@daynik36july.com
হটলাইন: ০১৯১২২২২৯৮৫



আমাদের পেজ লাইক করুন