বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সরকারি বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী—সাগর আহমেদ ও রাব্বি হোসেন। তাঁদের রক্তমাখা আত্মত্যাগ আজও নতুন প্রজন্মের কাছে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে রয়েছে। এই শহীদ দিবসকে স্মরণ করে এবং তাঁদের সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারি বাঙলা কলেজ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের উদ্যোগে পালিত হলো “বাঙলার আত্মত্যাগ” শীর্ষক কর্মসূচি।
শ্রদ্ধা, প্রত্যয় ও সংগ্রামের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী পদযাত্রা। শিক্ষার্থীরা কলেজ চত্বর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে একত্রে পদযাত্রা করেন। “স্লোগানে স্লোগানে স্মরণ, পদযাত্রায় প্রতিজ্ঞা”—এই অঙ্গীকার বুকে ধারণ করে তারা শহীদদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। পদযাত্রার পুরোটা জুড়ে ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায্য দাবির পক্ষে শক্তিশালী স্লোগান এবং শহীদদের স্মরণে স্তব্ধ এক মনপ্রাণ।
মিরপুর ১০ নম্বরে গিয়ে অনুষ্ঠিত হয় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ, যেখানে শহীদ সাগর ও রাব্বির সাহসিকতা, মানবিকতা ও আন্দোলনমুখী ভূমিকা তুলে ধরেন বক্তারা। বক্তৃতায় ছাত্রনেতারা বলেন,
“শহীদরা শুধু কোনো ঘটনার শিকার নন—তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এক অদম্য সাহসের নাম। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো এই আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সাহসিকতার পথ অনুসরণ করা। শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কোনোদিন বিস্মৃত না হয়, সে লক্ষ্যেই ভবিষ্যত কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশ শেষে ঘোষণা দেওয়া হয়, প্রতিবছর ১৯ জুলাইকে “বাঙলার আত্মত্যাগ দিবস” হিসেবে পালনের মধ্য দিয়ে শহীদ সাগর ও রাব্বির গৌরবময় স্মৃতিকে জীবন্ত রাখা হবে। সরকারি বাঙলা কলেজ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের পক্ষ থেকে এই দিনের নানা আয়োজনে তাঁদের স্মৃতি রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো—ছাত্রসমাজ কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথানত করে না। সাগর ও রাব্বির আত্মত্যাগ যতদিন ছাত্র-জনতার হৃদয়ে থাকবে, ততদিন সংগ্রামের আগুনও জ্বলবে চেতনাপটে।
www.daynik36july.com