জুনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ-দৈনিক৩৬জুলাই
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জমি-সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নৃশংসভাবে খুন হওয়া ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী হত্যাকাণ্ডের আট বছর পর অবশেষে বিচার পেল পরিবার। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বহুল প্রতীক্ষিত রায়ে ১৩ জন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
রায় ঘোষণার সময় ৭ জন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও, ৬ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমিন বিপ্লব রায়ে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করেন।
নিহত সৈয়দ আলী এবং দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামি করিমগঞ্জ উপজেলার দেওপুর (কজলাহাটি) গ্রামের বাসিন্দা।
২০১৬ সালের নির্মম সেই বিকেল
২৩ মার্চ ২০১৬। করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী। ঠিক তখনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একই গ্রামের একদল প্রতিপক্ষ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
পরদিন, নিহতের বড় বোন পারভীন সুলতানা করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহর আলী একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান
নিহতের পরিবার জানায়, তারা দীর্ঘ আট বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনেছেন। একাধিকবার শুনানি স্থগিত হওয়ায় হতাশায় পড়েছিলেন তারা। আজকের রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তারা।
পারভীন সুলতানা বলেন,
“আমার ভাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। আজ মনে হচ্ছে, কিছুটা হলেও সে হত্যার বিচার হয়েছে। তবে যারা পলাতক, তাদেরও যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়—এটাই আমাদের চাওয়া।”
রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিক্রিয়া
আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন,
“এটি একটি পরিকল্পিত ও বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ড ছিল। দীর্ঘ সময় পর হলেও আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এই রায় সমাজে আইনের শাসনের বার্তা দেবে।”
মূল পয়েন্টস:
স্থান: করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ
ঘটনা: ২৩ মার্চ ২০১৬
রায় ঘোষণা: ১৭ জুলাই ২০২৫
দণ্ডপ্রাপ্ত: ১৩ জন
শাস্তি: যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে বিনাশ্রম
www.daynik36july.com