রাজবাড়ীতে আধিপত্যের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪, বসতঘরে ভাঙচুর
আক্কাস আলী খান
রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি
তারিখ: ৮ জুলাই ২০২৫
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ইউনিয়নের লক্ষীপুর, সুবর্ণখোলা ও ভাতশালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ির গেটে হামলারও চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—কসবামাজাইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার তামজিদ হোসেন, স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামির হোসেন, ভাতশালা গ্রামের ইসমাইল হোসেন ও আশিকুর রহমান তন্ময়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় সামাজিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইউপি সদস্য তামজিদ হোসেন ও বাজারের ব্যবসায়ী মুল্লুক মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে কসবামাজাইল ইউপি চেয়ারম্যান সুফল মাহমুদ বলেন, “এখানে সামাজিক রীতির ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুল্লুক মেম্বারের সমাজ থেকে বের হয়ে যাওয়ায় তাকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই প্রথমে দোকান ভাঙচুর হয় এবং পরে পাল্টা হামলা চালানো হয়।”
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এসএম মতিউর রহমানের ভাতিজা চেয়ারম্যান সুফল মাহমুদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তার বাড়ির গেটেও হামলার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মেম্বার তামজিদ হোসেন বলেন, “আমরা এক পক্ষ করি, ওরা চেয়ারম্যানের দলে। ওরাই আমাদের ওপর প্রথম হামলা চালায়। আমি নিজেই আহত হয়েছি। মতিউর রহমান স্যারের বাড়ির গেটে হামলা করেছে বহিরাগতরা।”
এ প্রসঙ্গে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার জানান, “কিছুদিন আগে পাশের এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ব্যক্তি কসবামাজাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়ায় সামাজিক উত্তেজনা বাড়ে। এরই জেরে এ সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।”
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
www.daynik36july.com