ভোলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে অ্যাসিডে দগ্ধ করে রাস্তার পাশে ফেলে পালাল দুর্বৃত্তরা: জাতীয় নিরাপত্তা ও নারী নিরাপত্তায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক ৩৬ জুলাই
তারিখ: ২৯ জুন ২০২৫, রবিবার | স্থান: ভোলা-বরিশাল মহাসড়ক, তালুকদারহাট
বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পলিথিনে মোড়ানো, হাত-পা বাঁধা ও অ্যাসিডে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৯ জুন ভোররাতে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার বন্দর থানাধীন তালুকদারহাটের পাশের জঙ্গলে। ভুক্তভোগী ২৩ বছর বয়সী মারিয়া বেগম বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি বিভাগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় ঘটনা প্রকাশে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে একটি বড় পলিথিন মোড়ানো জিনিস দেখে সন্দেহ হলে তারা এগিয়ে যান এবং নারীর অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। বন্দর থানার তদন্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, ওসি রফিকুল ইসলাম ও এসআই সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ভয়াবহতার মাত্রা: একজন মা ও অনাগত সন্তানের ওপর নির্মমতা
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মারিয়া বেগম তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার স্বামীর নাম মশিউর। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি তার বরিশালের দপদপিয়া গ্যাসটারবাইন এলাকার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এই ভ্রমণের মধ্যবর্তী সময়েই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারীর শরীরে দাহ্য পদার্থের অস্তিত্ব মিলেছে, তবে এটি অ্যাসিড কিনা, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। তার অচেতনতা এখন তদন্তের বড় প্রতিবন্ধকতা। পুলিশের ভাষ্যমতে, মারিয়া বেগম জ্ঞান ফিরে পেলে তার সাক্ষ্য থেকেই তদন্তে বড় অগ্রগতি সম্ভব।
পুলিশি তদন্ত ও আইনি অগ্রগতি
এই জঘন্য হামলার ঘটনায় বন্দর থানা একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল ঘিরে ফরেনসিক ও গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। মারিয়া বেগমের ভ্রমণের সময়কাল, মোবাইল লোকেশন, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অপরাধের পেছনে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, পূর্ব বিরোধ অথবা পরিকল্পিত আক্রমণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নারী নিরাপত্তা ও জনমনে প্রতিক্রিয়া
গর্ভবতী নারীর ওপর এমন পাশবিকতা পুরো জাতিকে হতবাক করেছে। অ্যাসিড হামলা সমাজে নারীর প্রতি চরম অবমাননার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এই ঘটনাটি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা ও নারীর চলাচলে ঝুঁকির নগ্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল কঠোর আইন নয়, প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, দ্রুত বিচার এবং ভিকটিম সুরক্ষা ব্যবস্থা।
এক নজরে ঘটনাটি:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ভুক্তভোগীর নাম | মারিয়া বেগম |
| বয়স | ২৩ বছর |
| অবস্থা | তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা, আশঙ্কাজনক |
| উদ্ধার স্থান | তালুকদারহাট, বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক |
| উদ্ধার সময় | ২৯ জুন ২০২৫, ভোর |
| পরিচয় | স্বামী মশিউর, বাবার বাড়ি বরিশাল, শ্বশুরবাড়ি ভোলা |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ওসিসি |
| হামলার ধরন | অ্যাসিড দগ্ধ, হাত-পা বাঁধা, পলিথিনে মোড়ানো |
| তদন্তের অবস্থা | চলমান, ফরেনসিক রিপোর্ট ও জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা |
মারিয়া বেগমের ওপর এই নারকীয় আক্রমণ সমাজের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি নিছক এক নারী নয়, একজন মা ও এক অনাগত শিশুর ওপর চরম নিষ্ঠুরতার প্রকাশ। জনগণের দাবি—দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মারিয়া এভাবে রাস্তার পাশে পড়ে না থাকে।
যোগাযোগ: www.daynik36july.com