October 28, 2026, 9:15 am
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

ছাত্রদল নেত্রী ইস্পীতার মৃত্যু : ধর্ষন ও হত্যার অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের ক্ষোভ

মোঃ মাকসুদুর রহমান ঢাকা
Oplus_0

সুকর্ণা ইস্পিতার মৃত্যু: ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ

ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৫:
ভোলা সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সুকর্ণা ইস্পিতার লাশ চাঁদপুরে নদীর পাশে পঁচা গলায় পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে—ইস্পিতাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এবং এতে ছাত্রদল ভোলা জেলার শীর্ষ নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

ঘটনার ক্রম:

জানা গেছে, গত ১৩ জুন ইস্পিতা তার ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসে লিখেন,

“আমার সাথে ইমা যে ব্যবহার করেছে তাতে আমি একদমই ভেঙে পড়েছি। আমি ছাত্রদল থেকে আজ পদত্যাগ করছি।”
এই স্ট্যাটাসের পরের দিনই ইস্পিতাকে কর্ণফুলী লঞ্চে ডেকে নেয়া হয়। কেবিনটি বুক করা ছিল ভোলা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিমের নামে।

স্থানীয় সূত্র ও আরটিভির বরাতে জানা যায়, ওই কেবিনেই ইস্পিতাকে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে তাকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। চারদিন পর চাঁদপুরের নদীর পাশে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সন্দেহভাজন:

  • জসিম: ভোলা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন আগেই তিনি ইস্পিতার বাবাকে মারধর করেছিলেন।
  • ইমা: ভোলা ছাত্রদলের আরেক নেত্রী। ফেসবুক স্ট্যাটাসে নাম আসার পর অনেকেই সন্দেহ করছেন, কমিটি ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেই ঘটনাটি ঘটতে পারে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:

ইস্পিতা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি পদত্যাগ করার কয়েকদিনের মধ্যেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত কোনো শক্তিশালী বিবৃতি দেয়নি। সন্দেহভাজন নেতারা নিজেরা বক্তব্য না দিয়ে কেবল দলীয় ‘শোকবার্তা’ শেয়ার করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দলীয় নারী নেত্রী হত্যার ঘটনায়ও কি নীরবতা থাকবে?

বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন “বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ”-এর দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহীম মাহমুদ বলেন,

“একটি সংগঠন তার নারী সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে, সেখানে রাজনীতি নয়, প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।“

তিনি আরও দাবি করেন,

“যদি এ ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে বিচার দাবি করে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি না হয়, তবে স্পষ্ট হবে—নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কোনো অবস্থান নেই।“

শেষ কথা:

এটি শুধু একটি ধর্ষণ বা খুনের ঘটনা নয়—এটি বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির নৈতিক পতনের একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলো কতটুকু স্বচ্ছতা ও সাহস দেখাতে পারে এই জঘন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে।


প্রতিবেদক:
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক ৩৬ জুলাই নিউজ ডেস্ক
📧 Email: news@daynik36july.com



আমাদের পেজ লাইক করুন