October 28, 2026, 5:15 am
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার অভিযোগ—কালিকাপুরে মাদক সিন্ডিকেটের দাপট? আতঙ্কে তরুণ সমাজ, উঠছে নানা প্রশ্ন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সরকারি বাঙলা কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত কারো বক্তব্য প্রচার বন্ধ রাখা যায় না, সরাইলে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা! কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে হামলার ভিডিও ধারণ করার সাংবাদিকদের ডান হাতের কাঁধ ভেঙে দিল ছাত্রদলের দুর্বৃত্তরা হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ নাসিরনগরে কৃষি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, জনতার হাতে এক প্রতারক আটক ‎প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, ‎বাজারের অস্থিরতায় লাগাম টানতে চাই কার্যকর ‎পদক্ষেপ, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে খুচরা দাম, নাসিরনগরে কাঁচামরিচের কেজি ছাড়ালো ৩০০ টাকা
নোটিশ :

ভালবাসার ছলনায় নিভে গেল তিনটি প্রান

রিপোর্টারের নাম

 

সংবাদ প্রতিবেদন:

ঢাকার মিরপুরে হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী হলো শহরবাসী। একসঙ্গে তিনটি পরিবার হারাল তাদের সন্তান, স্বামী, বা স্বপ্ন—সবই প্রেম, ছলনা ও আবেগের অন্ধত্বের কারণে।

গোপালগঞ্জের মেয়ে দোলনা আক্তার, উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে এলএলএম করছিলেন। মিরপুর-১১ নম্বরে একটি ভবনের পাঁচতলায় সাবলেট থাকতেন তিনি। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বরগুনার ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা পাপ্পুকে। স্বামীর সঙ্গে মাঝে মাঝে ঢাকায় দেখা করতেন দোলনা। তবে এই বৈধ সম্পর্কের আড়ালে গড়ে উঠেছিল আরেকটি গোপন প্রেম।

ফেসবুক ইনবক্সে পরিচয় হওয়া সৌদি প্রবাসী গাউস মিয়ার সঙ্গে দোলনার সম্পর্ক তৈরি হয়। দোলনা তার বিয়ের তথ্য গোপন রেখে গাউসের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন প্রেমের অভিনয়। সেই প্রেমের টানে সৌদি থেকে দেশে ফেরেন গাউস, উদ্দেশ্য—প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দেখা।

তবে এবার দোলনা ফোন ধরছিলেন না। কারণ, স্বামী পাপ্পু তখন তার সঙ্গে ছিলেন। ফোন না ধরার কারণে সন্দেহ তৈরি হয় গাউসের মনে। আগেই দেওয়া ঠিকানা ধরে দোলনার বাসার আশেপাশে অবস্থান নেন। এরপর এক সকালে দোলনা ও তার স্বামীকে একসঙ্গে খাবার হোটেলে নাশতা করতে দেখে অনুসরণ করেন তিনি। নিশ্চিত হন—দোলনার একটি গোপন বিয়ে ছিল।

ক্ষিপ্ত হয়ে বাসা থেকে দুটি ছুরি নিয়ে দোলনার বাসায় ঢোকেন গাউস মিয়া। এরপরই ঘটে ভয়ানক ট্র্যাজেডি—দোলনা ও তার স্বামী পাপ্পুকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। পরে নিজেও ঝাঁপ দেন পঞ্চম তলা থেকে। একসঙ্গে নিভে যায় তিনটি প্রাণ—একটি মেয়ের ছলনা, এক ছেলের অন্ধ ভালোবাসা, আর এক স্বামীর নিরীহ উপস্থিতি মিলিয়ে তৈরি হয় এক নির্মম সমাপ্তি।

এই ঘটনার মূল শিক্ষা:

ভালোবাসা ছলনা সহ্য করতে পারে না।

একটি মিথ্যা সম্পর্ক শুধু একজনকে না, অনেক জীবনকে শেষ করে দিতে পারে।

আবেগ যখন অন্ধ হয়, তখন সে মানুষকে পশু করে তোলে।

সম্পর্ক মানে দায়িত্ব, সততা আর স্বচ্ছতা।

মন্তব্য:
এই হত্যাকাণ্ড কেবল প্রেমঘটিত না, এটি সমাজে সততার অভাব, আবেগের অপব্যবহার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়ে ওঠা ভুয়া সম্পর্কের চরম পরিণতি।

আজ সময় এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রেম নয়, সম্পর্কের বাস্তবতা শেখানোর। আমাদের নাটক-সিনেমায়ও প্রয়োজন প্রেমের বাস্তব দিক তুলে ধরা, যেন তরুণ প্রজন্ম মায়ার মোহে না হারায় নিজেদের বা অন্যের জীবন।

শেষ কথা:
শেষ জামানায় খুনি জানবে না সে কেনো খুন করছে, আর নিহত জানবে না তার অপরাধ কী ছিল।
পাপ্পুর মতো অনেক মানুষ শুধু ভুল মানুষের ভালোবাসার কারণে অকালে হারিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনার দায়ভার আমাদের সবার—সমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা, এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি অন্ধ নির্ভরতা।

 

 

 



আমাদের পেজ লাইক করুন