কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি;
কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার হাজতখানায় এক পরোয়ানাভুক্ত যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে হাজতের ভেতর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত রুবেল মিয়া (২১) উপজেলার কারাপাশা ইউনিয়নের শহরমুল গ্রামের রাজা হাওলাদারের ছেলে। তিনি একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিকলী সিআর মামলা নং-৪০১(১)/২৬-এর পরোয়ানার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রুবেলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এএসআই (নিঃ) মো. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও দেহ তল্লাশি শেষে হাজতখানায় রাখা হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টা ১০ মিনিটে রুবেলের বাবা হাজতে এসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর গ্রেপ্তারের তথ্য সিডিএমএসে সংরক্ষণের জন্য তার ছবি তোলা হয় এবং আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাকে আদালতে পাঠানোর জন্য হাজত থেকে বের করতে গেলে দেখতে পান, তিনি নিজের পরিহিত ফুলহাতা শার্ট খুলে হাজতের লোহার গ্রিলের সঙ্গে পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।