বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি :
রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রাবাসে অযৌক্তিক হারে বার্ষিক ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যায় হল সুপারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রাবাসের ফি এক লাফে ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষণাটি প্রকাশের পর থেকেই হলজুড়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ফি বৃদ্ধি হলেও ছাত্রাবাসের সুবিধা-সুবিধায় কোনো উন্নতি হয়নি; বরং আগের মতোই নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। গত ২৪–২৫ অর্থবছরে ছাত্রাবাসের ফি ছিল ৪ হাজার টাকা। জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে ২৫–২৬ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করলেও, এ বছর আবারও অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অবকাঠামো ও আসবাব সংকটে চরম ভোগান্তি
সিট বরাদ্দ হওয়ার এক বছর অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ রুমেই প্রয়োজনীয় চেয়ার–টেবিল পর্যাপ্ত নেই। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রিডিং রুমের অবস্থা এতটাই নাজুক যে সেখানেও স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করা যায় না।
হল প্রশাসন সম্প্রতি নামমাত্র কিছু চেয়ার–টেবিল সরবরাহ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ৩৫টি রুমে মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩৩টি চেয়ার–টেবিল।
শিক্ষার্থীদের দাবি, লোকদেখানো কয়েকটি চেয়ার–টেবিল এনে ২ হাজার টাকা ফি বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই। বরাদ্দ দেওয়ার আগে ছাত্রদের মতামতও নেওয়া হয়নি।
অবৈধভাবে হলে বসবাস, প্রশাসন নীরব
আবাসিকরা অভিযোগ করেন, হলে সিট বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও কিছু শিক্ষার্থী মাসের পর মাস হলে অবৈধভাবে বসবাস করছে, যারা কোনো ফি-ই প্রদান করে না।
শিক্ষার্থীরা জানান, অবৈধ ছাত্রদের বের করার ক্ষমতা হল প্রশাসনের নেই। শুধু নামমাত্র নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ। অথচ বৈধ আবাসিক ছাত্রদের ওপরই সব আর্থিক চাপ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ
হল প্রশাসন শুধু ফি বাড়ানোয় ব্যস্ত, কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা জরুরি প্রয়োজন নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই বলে দাবি আবাসিকদের। সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পেও কর্তৃপক্ষের কোনো খোঁজখবর ছিল না।
২০১ নং রুমের সিফাত বলেন,
এত বড় ভূমিকম্পে হলের দেয়ালে ফাটল দেখা গেল, কিন্তু হল সুপার একবারও জানতে আসেননি আমরা নিরাপদ আছি কিনা। এটি দায়িত্বে চরম অবহেলা।
১০৩ নং রুমের শাওন বলেন,
হল সুপারের রুম ২৪ ঘণ্টাই তালাবদ্ধ থাকে। কোনো কাজে পাওয়া যায় না। শুধু বসে বসে বেতন তোলার জন্যই আছেন মনে হয়।
৩০৩ নং রুমের একজন শিক্ষার্থী আরও বলেন,
অবৈধ ছাত্ররা যেহেতু টাকা না দিয়েই হলে থাকে, তাহলে আমরাও এইবার ফি দেব না।
অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধি প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক আলোচনা সভা করে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেন। তারা জানান—
হল এবং কলেজ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে ।বদাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা করবেন
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সুবিধা বাড়ানো ছাড়া ফি বাড়ানো আমরা মেনে নেব না। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে বড় ধরনের আন্দোলন হবে।
ছাত্রাবাসের অব্যবস্থাপনা, বেহাল অবকাঠামো, পর্যাপ্ত আসবাবের সংকট, প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং অবৈধ ছাত্রদের দৌরাত্ম্য—সব মিলিয়ে বাঙলা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন, শুধু ফি বাড়ানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বেঁচে থাকা, পড়াশোনা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।