
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট টানা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘটনাস্থলে এখনও ধোঁয়া ও দগ্ধ পোশাকের গন্ধে ভারী হয়ে আছে পুরো এলাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন প্রথমে ভবনের নিচতলায় থাকা ওয়াশ ইউনিটে দেখা দেয়। সেখানে থাকা দাহ্য রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওপরের তলাগুলোতে। আটকা পড়েন অন্তত চল্লিশের বেশি শ্রমিক। তাদের অনেকেই ছাদে উঠে বাঁচার চেষ্টা করলেও ধোঁয়া ও উত্তাপে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দগ্ধ আহতদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবনটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। গুদামে রাসায়নিক দ্রব্যের অনুমোদনও ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি করেন।
শোকবার্তায় তিনি বলেন,
“এই দুর্ঘটনায় শ্রমজীবী মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো।”
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের প্রতিটি শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা পরিদর্শন জোরদার করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শ্রমিককে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোক প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং নিহতদের পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাসায়নিক গুদামটির কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না এবং ভবনটির জরুরি সিঁড়িও ছিল একটিমাত্র। ফলে আটকে পড়া শ্রমিকদের পক্ষে বেরিয়ে আসা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। অনেকে বলছেন—
“প্রতিবার আগুন লাগে, মানুষ মরে, তারপর আসে শোক আর তদন্ত। কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলায় না।”
মিরপুর শিয়ালবাড়ির এই অগ্নিকাণ্ড আবারও প্রমাণ করল, আমাদের শিল্পকারখানাগুলো এখনো ঝুঁকির মুখে। দায়ীদের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে এই আগুন শুধু ভবন নয়— দেশের শ্রমজীবী মানুষের বিশ্বাসও পুড়িয়ে দেবে।