বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি:নাজমুল ইসলাম ছাকিব; দৈনিক ৩৬জুলাই
ঢাকা ২ অক্টোবর ২০২৫
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকারি বাঙলা কলেজ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে।
ছাত্রসংসদের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনে যে ভাষাভিত্তিক ঐতিহ্য ও জাতীয় চেতনা রয়েছে, তা অক্ষুণ্ণ রেখে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে। এজন্য অধ্যাদেশে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
উত্থাপিত ৮ দফা দাবি হলো—
দাবি ১: অধ্যাদেশের ২ নম্বর ধারায় প্রস্তাবিত “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি”-এর সাথে বাংলা নাম “ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়” যুক্ত করা।
দাবি ২: প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র “বাঙলা ভাষা গবেষণা ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠা। এটি হবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গভীর গবেষণার কেন্দ্র, যেখানে ভাষাবিজ্ঞান, ডিজিটাল আর্কাইভ, অনুবাদ কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ থাকবে।
দাবি ৩: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অর্থবছরের বাজেটের ন্যূনতম ২৮% গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা।
দাবি ৪: অধ্যাদেশে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ গঠনের বাধ্যতামূলক ধারা সংযোজন করা। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, নেতৃত্ব বিকাশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য এটি অপরিহার্য।
দাবি ৫: বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও সনদপ্রদান নিশ্চিতে স্পষ্ট ধারা সংযোজন। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধ্যয়নরত অনার্স ও মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, সনদ ও প্রশাসনিক সহায়তায় কোনো বিঘ্ন যেন না ঘটে।
দাবি ৬: দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ, অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট বরাদ্দ ও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ। যাতে চলমান শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা বিঘ্নিত না হয়।
দাবি ৭: শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
দাবি ৮: অধ্যাদেশের ধারা-৩ অনুযায়ী একাডেমিক কার্যক্রমের সময়সূচি সুস্পষ্টভাবে সংযোজন। পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীকে পূর্বের মতো ক্যাম্পাস, লাইব্রেরি, হল ও বাস ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রসংসদের নেতারা অভিযোগ করেন, একটি মহল ষড়যন্ত্র করে এ উদ্যোগকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় নিতে চাইছে। তারা আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় ১২ অক্টোবর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ছাত্রসংসদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে এই ৮ দফা অন্তর্ভুক্ত করবে। তাহলেই একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, গণতান্ত্রিক ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।