মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক ৩৬জুলাই
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ জমজমাট। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে নেমেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও। এ আসনে দলটির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে প্রফেসর মাওলানা আজিজুর রহমান (জার্মানি)-এর নাম।
প্রফেসর আজিজুর রহমান দীর্ঘ সময় প্রবাসে থেকে শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদান রেখে দেশে ফিরে এসেছেন। এবার তিনি নিজের এলাকায় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমেছেন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ নিয়ে। তাঁর মূল স্লোগান— “মুক্তির মূলতন্ত্র ইসলামী শাসনতন্ত্র৷
তিনি বলছেন, “যাদের পেশা রাজনীতি, তাদের নেশা দুর্নীতি। আমরা চাই এমন বাংলাদেশ যেখানে দুর্নীতি থাকবে না, চাঁদাবাজি থাকবে না, সবাই ন্যায়বিচার পাবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকে সমান অধিকার ভোগ করবে। নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের গ্রাম-গঞ্জে হাতপাখা প্রতীকের প্রচার শুরু হয়েছে জোরেশোরে। লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার থেকে শুরু করে জনসভা— সর্বত্রই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান তুলছেন তিনি। স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম তাঁর এই আহ্বানকে স্বাগত জানাচ্ছে। তাদের অনেকের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির বিকল্প হিসেবে প্রফেসর আজিজুর রহমান নতুন এক আশার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন।
সচেতন মহলের মতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদিও মূলধারার বড় দলগুলোর মতো প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও, সৎ নেতৃত্ব ও ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাজনীতি করার প্রতিশ্রুতি তাদের আলাদা জায়গা তৈরি করছে। বিশেষ করে প্রফেসর আজিজুর রহমানের নির্লোভ জীবনযাপন ও কর্মমুখী ভাবমূর্তি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তারা মনে করছেন, এ আসনে প্রফেসর আজিজুর রহমানের প্রার্থীতা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে। শুধু তাই নয়, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ হিসেবেও তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চান— এটাই তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার প্রফেসর আজিজুর রহমান দিয়েছেন, তা কি ভোটে রূপান্তরিত হবে? নাকি প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির ভিড়ে তাঁর সৎ ও দৃঢ় অবস্থান শুধু এক প্রতীক হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে? উত্তর মিলবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট বাক্স খোলার পরেই।