মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল,, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দৈনিক ৩৬জুলাই
বাংলাদেশে ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠিত খেলাফত মজলিসের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী তরবিয়তি (আন্তরিক প্রশিক্ষণমূলক) মজলিস। জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের অংশগ্রহণে এ আয়োজনটি এক নবতর উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঝে।
জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার শাখা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের সূচনা থেকেই দৃশ্যমান হয় এক প্রেরণামূলক পরিবেশ, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল—ইসলামি আদর্শে গঠিত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রূপরেখা ও সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করার রণকৌশল।
সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন হযরত মাওলানা আব্দুল আহাদ সাহেব।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শায়খ এ বি এম সিরাজুল মামুন, যিনি তার বক্তব্যে বলেন:
> "আজকের তরবিয়ত মজলিস কেবল একটি প্রশিক্ষণ নয়, বরং একটি দীপ্ত সংকল্প—যার মাধ্যমে কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশে খেলাফত মজলিসের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে আমরা আরও নিবেদিত হবো।"
প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ কেবল দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক পুনর্জাগরণের উপলক্ষ।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন সাহেব, যিনি বাস্তবিক ময়দানে কাজ করার জন্য করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সঞ্চালনায় ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য হাফেজ হযরত মাওলানা এমদাদুল্লাহ। পুরো অনুষ্ঠানটি তিনি সুচারুভাবে পরিচালনা করেন।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে উঠে আসে সংগঠনের আগামী নির্বাচনী প্রস্তুতি, কিশোরগঞ্জ জেলার মনোনীত প্রার্থীদের দায়িত্ব ও ভূমিকা এবং ইসলামি রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা। বক্তারা বলেন, নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার একটি মাইলফলক।
যুব মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক আকরাম খন্দকার বলেন:
> "আমরা এমন একটি সময় পার করছি, যেখানে সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা না থাকলে জাতি পথ হারাবে। কিশোরগঞ্জ থেকে ইনশাআল্লাহ একটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করবো—এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠে কাজ করছি।
প্রশিক্ষণে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ফরহাদ ফারুকীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
দিনব্যাপী আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিকল্পনা শেষে সভাপতি মাওলানা আব্দুল আহাদ সাহেব এক আবেগঘন সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে মজলিসের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।
খেলাফত মজলিসের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, দলটি শুধু নির্বাচনী রাজনীতিতেই নয়, বরং আদর্শিক ও সংগঠনিক দিক থেকেও একটি সুদৃঢ় ভিত গড়তে অগ্রসর হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ থেকে ইসলামি আন্দোলনের নতুন সূচনা হোক—এই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা।