আল আমিন চরফ্যাশন(ভোলা) প্রতিনিধি : দৈনিক৩৬জুলাই
চরফ্যাশনের মাদ্রাজ ইউনিয়নের চর আফজাল গ্রামে জমি বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাসাতে স্ত্রী জাহানারা বেগম ও শিশু পুত্র আবিরকে (৮) হত্যার দায়ে স্বামী মাহাবুব আলম ওরফে মাফু ও ইব্রাহিম নামের দুই জনকে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়েছেন চরফ্যাসন ( চৌকি) অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এই মামলায় অপর আসামী মান্নান মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে আদালত খালাস প্রদান করেন । আদালত একই সাথে কারাদন্ড পাওয়া আসামীদেরকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামী মাহাবুব ও ইব্রাহিম আপন ভাই, তারা একই মামলায় খালাস পাওয়া মান্নান মাঝির ছেলে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর ) দুপুর ১২ টায় অতিরিক্ত দায়রা জজ মো: শওকত হোসাইনের আদালত আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।
মামলার রায়ের সময় রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডিশনাল পিপি এডভোকেট হযরত আলী হিরণ ও আসামী পক্ষে এডভোকেট ছিদ্দিক মাতাব্বর ও এডভোকেট মাঈনুল ইসলাম নাবিল সরমান উপস্থিত ছিলেন। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালতে এই রায় প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়,
আসামীদের পরিবারের সাথে তাদের গ্রামের জনৈক মিলন নক্তি'র জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিলো। এই বিরোধের সুত্র ধরে মিলন নক্তিকে ফাসিয়ে দেয়ার জন্য আসামী মাহাবুব এবং ইব্রাহীম ভিকটিম জাহানারা বেগমকে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ রাতে তার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করে হত্যা করে। এই ঘটনা একই বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা শিশু পুত্র আবির (৮) দেখে ফেলায় আসামীরা আবীরিকেও হত্যা করে লাশ পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। ঘটনা ঘটিয়ে আসামী ইব্রাহীম অপর আসামী মাহাবুব কে তাদের ঘরের সামনের গাছের সাথে দড়ি দিয়ে বেধে চিৎকার চেচামেচি করে, আশেপাশের মানুষ আসলে তাদেরকে জানায় মিলন নাক্তি ডাকাতি করতে এসে ভিকটিমদেরকে খুন করেছে। মাহাবুবের কথায় সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজে স্ত্রী ও শিশু পুত্রকে হত্যার কথা স্বীকার করে, মূল ঘটনা খুলে বলে। পরে ভিকটিম জাহানারার পিতা মোঃ সৈয়দ আলী চৌকিদার ঘটনার দিনই বাদী হয়ে ৪ জন আসামীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডিশনাল পিপি হযরত আলী হিরণ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপর দিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মাইনুল ইসলাম নাবিল সরমান আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।