নাজমুল ইসলাম সাকিব
বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি : দৈনিক৩৬জুলাই
ঢাকা, ৩০ আগস্ট ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের নানামুখী সমস্যার সমাধানে অন্তবর্তী প্রশাসন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা একের পর এক দাবি জানালেও তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। বাস্তবে কোনো সুফল না পাওয়ায় তারা একাডেমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
রানিং সেশন সমস্যায় অচলাবস্থা:
চলমান (Running) শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সমস্যার সমাধানে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেশনজট নিরসন, পরীক্ষার সময়সূচি ও ফলাফল প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। একের পর এক মিটিং করেও প্রশাসন সুস্পষ্ট কোনো সমাধান বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
হেল্প ডেস্কের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি:
শিক্ষার্থীদের দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি ও একাডেমিক সমস্যার সমাধানে হেল্প ডেস্ক গঠন ছিল সময়ের দাবি। অন্তবর্তী প্রশাসন হেল্প ডেস্ক গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে প্রতিদিন নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
আগে তারা সমস্যার সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুখী হতো, আর এখন তাদেরকে নীলক্ষেত যেতে হয়। যদিও এতে কিছু ভাড়া সাশ্রয় হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে শিক্ষার্থীদের সময়, শ্রম ও মানসিক চাপ বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে।
অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা:
গত ২৬ আগস্টের মধ্যে কার্যকর অধ্যাদেশ প্রকাশের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো পদক্ষেপই দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীরা যেখানে একটি স্থায়ী ও সুস্পষ্ট সমাধান প্রত্যাশা করেছিলেন, সেখানে নতুন করে হতাশা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ:
সাত কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অন্তবর্তী প্রশাসন কেবল সময়ক্ষেপণ করছে। তারা বলেন, “আমরা সমাধানের আশ্বাস চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ চাই। দীর্ঘদিন এভাবে ঝুলে থাকার কারণে আমাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে এই অচলাবস্থা আরও গভীর হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক ক্ষতি হবে।