হাসমত আলী, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : দৈনিক৩৬জূলাই
সোনালী পাট" সোনালী স্বপ্ন বুননে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। দামুড়হুদা কৃষকরা পাট কেটে, জাগ দিয়ে (পচিয়ে) আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে নারী-পুরুষ। দামুড়হুদার কৃষকরা তাদের সোনালী স্বপ্ন বুনছেন সোনালী আঁশ ঘরে তোলার জন্য। এই সময়ে, বর্ষার পানি ব্যবহার করে পাট পচানো এবং আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়।
বাংলাদেশ সোনালী আশেঁর দেশ। এক সময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। দামুড়হুদা উপজেলায় পাটের ফলন এ বছর ভালো। বর্তমানে বাজারমূল্য ভালো থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয় চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাট কাটা, জাগ দেয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। পাটের বীজ বপন থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়িয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তত করা পর্যন্ত যে খরচ হয় তাতে করে বর্তমান বাজারদরে পাট বিক্রি করলে লাভ হবে কৃষকদের।
দামুড়হুদা কৃষি অফিসসুত্রে জানাযায়, এ বছর দামুড়হুদায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ২ শ’ ৭০ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৬শ’ ১২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। দামুড়হুদার কয়েকটি এলাকায় আগাম পাটের চাষ করায় ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেকের পাট বিক্রির প্রস্ততি চলছে।অনেক স্থানে পাটের আঁশ ছড়ানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে এ বছর পাটের বাজার মূল্য ভালো থাকায় কুষকরা খুশি । ইতোমধ্যে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। পাটের বাজারে মণ প্রতি ৩ হাজার ২ শ টাকা। তবে পাটের আশের কালার ভালো হলে দাম ৩ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হচ্ছে।এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাত আলী ও স্বপন বলেন, বর্তমানে মণ প্রতি পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। বাজার অনুযায়ী পাটের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলার ধান্যঘরার পাটচাষী মো.সহোরাব ও জহিরুল বলেন, পাট ঘরে তুলতে যে খরচ হয় তাতে করে বর্তমান দাম অনুযায়ী বিক্রি করলে লাভ হবে। তবে বাজারে দাম ভালো হওয়ায় আমরা খুশি।
উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া গ্রামের পাটচাষী রহমান বলেন, পাটের ফলন ভালো হয়েছে দামও ভালো।
দামুড়হুদা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, এ উপজেলার আবহাওয়া পাট চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এ কারণে প্রতি বছরই এখানে পাটের ফলন ভালো হয়। চলতি বছরও ভালো ফলন হয়েছে। আমরা কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। বাজারে পাটের দামও ভালো আশাকরি সামনে আরো পাটের দাম বাড়বে।