আক্কাস আলী খান,
রাজবাড়ী, প্রতিনিধি
দেশের অর্থনীতির বড় অংশ কৃষি নির্ভর। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে আরও বিকশিত হচ্ছে এই খাত। হচ্ছে আধুনিকায়ন। এর ফলে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে ঘটছে নীরব কৃষি বিপ্লব। বালিয়াকান্দির বিভিন্ন এলাকার পাকা বাড়ীর ছাদেও জনপ্রিয় হচ্ছে ছাদ বাগান।
স্বাচ্ছন্দ্য, অনায়াস উদ্দীপনা, উদ্যম ও শক্তি নিয়ে দিনরাত মাঠে পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা ঘোরাচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। এতে কৃষি বিপ্লবে আসছে গতিশীলতা। অনেকাংশেই চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। তৃণমূল অর্থনীতির কাঠামো মজবুতের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে এই কৃষি। মাঠের উৎপাদনে অনেক গ্রাম এখন পরিণত হয়েছে আঞ্চলিক শহরে।
বালিয়াকান্দি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, দেশে কৃষি কর্মকাণ্ডে এসেছে বিরাট গতিশীলতা। বিভিন্নস্থানে এখন এক জমিতে চার ফসলী শস্য আবাদের চেষ্টা চলছে। জোর দেওয়া হয়েছে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিতে। সে জন্য সাথী ফসল উৎপাদনের ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।
সার্বিক কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নেই ধান, গম, ভুট্টাসহ মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনে দেশের মধ্যে একটি অবস্থান তৈরী করে নিয়েছে এই উপজেলা। একই জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, কালিজিরা, মশুরি, মটরসহ বছরে একাধিক ফসল চাষে দেশের মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে আমাদের উপজেলা।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলামের অভিমত, মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রণয়ন, উপকরণের চাহিদা পূরণ ও মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে। এবং এটা করার পরামর্শ রফিকুলের। বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর, বহরপুর, নবাবপুর, জঙ্গল, নারুয়া, বালিয়াকান্দি ও জামালপুর ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি ব্লক রয়েছে। সবখানে সমানতালে জোরদার হলে আরও বহুগুণে বেড়ে যাবে কৃষি উৎপাদন।
জলাবদ্ধতার নিরসন, সারফেস ওয়াটার ডেভলপমেন্ট, ক্ষুদ্র সেচ, রেগুলেটর ও জলকপাট নির্মাণ এবং পাম্পিং মেশিন স্থাপনে কৃষকরা উপকৃত হয়েছে। এসকল বহুমুখী প্রকল্পে বালিয়াকান্দির বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় এসেছে। বোরো, রোপা, আউশ, আমন, পাট, রবিশস্য ও সবজিসহ সব ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। মানুষ এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখছে না। বাড়ির উঠানে, আনাচে কানাচে সবজি উৎপাদন হচ্ছে মাঠের বাইরেও। কৃষকের পাশাপাশি কৃষকের গৃহিণীরাও এখন পুরাদমে কৃষি উৎপাদনে সময় ব্যয় করছেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলামের অভিমত, কৃষিখাতে সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপে দেশে কৃষিজাত আয় ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। কৃষিতে আসছে অভাবনীয় সাফল্য। তবে কৃষকের স্বার্থে কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ ও উপযুক্ত মূল্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেওয়াসহ সমস্যাদির সমাধান হলে কৃষিতে শতভাগ সাফল্য আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে কৃষি অফিসার বলেছেন, বর্তমানে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ মনের অধিক ধান আবাদ সম্ভব হচ্ছে। নতুন নতুন জাত মাঠে ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিজ্ঞানীরা নিরলস পরিশ্রম করছেন। কৃষিতে সরকার সারা দেশে কৃষি গবেষণাগার তৈরি ও গবেষণার কাজে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে কৃষিতে এই বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন।
এ বিষয়ে কৃষি অফিসার আরও বলেন, কৃষি ও কৃষক বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাই অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এই খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষকের অকৃত্রিম বন্ধু হচ্ছেন সরকার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি মন্ত্রণালয়। তাই দেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনা করছেন বর্তমান সরকার। বর্তমানে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম যোগদানের পর সেই পথ অনুসরণ করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন প্রান্তিক কৃষক।
www.daynik36july.com