এম এ রইচ, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি | তারিখ: ৮ জুলাই ২০২৫
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চল দিয়ে বয়ে চলা মধুমতি নদী আজ মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে শতশত নদী পাড়ের মানুষের জন্য। অবৈধ বালু উত্তোলনের ভয়াবহ দৌরাত্ম্যে নদী ভাঙন দিনকে দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফসলি জমি, ঘরবাড়ি আর গাছপালা নিমিষেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে।
মধুমতি নদীর পয়স্তি ও সিকস্তি অংশে বালু উত্তোলন করে একদল অসাধু চক্র কোটি কোটি টাকার অবৈধ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বাবুখালী থেকে হরেকৃষ্ণপুর ও ঝামা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে চলছে এই দৌরাত্ম্য। এদের দাপটে নদী পাড়ের মানুষের চোখে পানি আর প্রশাসনের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।
পূর্বে কিছু অভিযানে জরিমানা হলেও, মূল চক্র এখন আরও বেপরোয়া। গত ২৩ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসুদেব কুমার মালো নদীতে অভিযান চালালেও ফলাফল শূন্য। অভিযানে কেউ হাতেনাতে ধরা পড়েনি। বড় খেলোয়াড়রা আবারও ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে।
নদী ভাঙনের শিকার মফিজুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, আক্কাচ মোল্যা, শ্রী দিনোবন্ধু ও লিলি বেগমদের মতো শত শত মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন—"বাঁচাও আমাদের ঘর, আমাদের গাছ, আমাদের জীবন।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় সুধীমহল ও সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—এই দৌরাত্ম্যের শেষ কোথায়? সরকার যেখানে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, সাধারণ মানুষ হারাচ্ছে সবকিছু, সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা হতাশাজনক।
বালি ‘সোনা’ নয়, যদি তা মানুষের কান্নার মূল্য হয়ে ওঠে। এই অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। নইলে মধুমতির বুক চিরে যে চর জেগে ওঠে, সেই চরে কেউ বাঁচবে না—থাকবে শুধু বিলাপ আর বেদনার ছায়া।
www.daynik36july.com