বরগুনায় ৮ শহীদ পরিবারকে জামায়াতের নগদ সহায়তা – "আন্দোলন কারও ছিল না, এটা ছিল মানুষের"
কাশেম হাওলাদার, বরগুনা: প্রতিনিধি
বরগুনায় জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ হওয়া আটজন সাহসী তরুণের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে বরগুনা পৌর এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেয় দলটি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা আমীর মাওলানা মোঃ মহিব্বুল্লাহ হারুন, নায়েবে আমীর এস এম আফজালুর রহমান, জেলা বাইতুলমাল সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসাইন, সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আল মামুনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ছাত্র ও পেশাজীবী প্রতিনিধি দল।
বক্তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। এটি ছিল সাধারণ মানুষের বৈষম্য, নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি। শহীদদের স্মরণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মো. মহিব্বুল্লাহ হারুন বলেন,
“শহীদ পরিবারকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, তাদের জীবনের শূন্যতা পূরণে জামায়াতে ইসলামী পাশে থাকবে। যারা গণহত্যা চালিয়ে চোরের মতো পালিয়ে যায়, তারা ইতিহাসে কখনো নায়ক হতে পারে না। অথচ জামায়াতের নেতারা বীরের মতো ফাঁসি বরণ করেছেন, দেশ ছাড়েননি। সেই কারণেই জনগণের আস্থা এখনও আমাদের উপর।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।
নগদ সহায়তা গ্রহণকারী পরিবারের একজন সদস্য বলেন,
“আমরা কোনও রাজনীতির মানুষ না, কিন্তু যাদের কারণে আমাদের সন্তানেরা জীবন দিল, সেই আদর্শকে ধরে রাখার লড়াইয়ে আমরা একা নই—এটা বুঝতে পেরে কিছুটা হলেও শান্তি পেলাম।”
সম্পাদকীয় নোট:
এই ধরণের সহায়তা দেশের রাজনীতিতে মানবিকতার একটি ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত। শহীদদের আত্মত্যাগ শুধু স্মরণে রাখলেই হবে না, তার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ গঠন করাটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
www.daynik36july.com