জালে নেই মাছ, সাগরে ঝুঁকি — দুশ্চিন্তায় বরগুনার জেলে পরিবার
কাশেম হাওলাদার, বরগুনা প্রতিনিধি || দৈনিক ৩৬ জুলাই
গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সমুদ্রে যেতে পারছে না অন্তত চার শতাধিক ট্রলার। এতে বেকার সময় পার করছেন হাজার হাজার জেলে, আর বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছেন ট্রলার মালিক ও মাছ ব্যবসায়ীরা।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার ৫৮ দিনের বিরতির পর মাছ ধরায় ফেরার যে আশা ছিল—তা নিম্নচাপ আর টানা বৃষ্টির কারণে ভেঙে চুরমার। বরগুনার মৎস্যজীবী পরিবারগুলো এখন চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে।
গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ছিল মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ট্রলার মালিক ও জেলেরা এ সময়ের পর ইলিশের মৌসুমে গভীর সমুদ্রে গিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র—নিম্নচাপের কবলে পড়ে মাছ ধরার সুযোগই মিলছে না।
জেলেরা জানাচ্ছেন, ঝুঁকি নিয়ে যারা সাগরে গিয়েছেন, তারাও খালি হাতে ফিরেছেন। তেল, বরফ ও বাজার খরচ গুনতে হয়েছে লোকসান দিয়েই। স্থানীয় জেলে ছগির হোসেন, মনির মিয়া, আনিচুর রহমান ও এমাদুল হোসেন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “প্রতিবছর এমন চলতে থাকলে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কথাটাই গল্প হয়ে যাবে।”
ট্রলার মালিক আবুল হোসেন ফরাজীর হিসাব বলছে, “গত এক মাসে আমার তিনটি ট্রলারে ১৪ লাখ টাকার বাজারসামগ্রী নিয়ে সাগরে পাঠিয়েছি, কিন্তু ফিরেছি মাত্র চার লাখ টাকার মাছ নিয়ে। প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।”
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সরকারি নিষেধাজ্ঞার চাপে মাছ নির্ভর উপকূলীয় জনগোষ্ঠী দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রিপে ট্রিপে মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখন সময় এসেছে, সরকারকে জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের পথ খুঁজে বের করতে হবে।”
অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তায় চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও নগর এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থাকায় গভীর সমুদ্রের সব ট্রলার ও নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
সংবাদ প্রস্ততি: কাশেম হাওলাদার
নিউজডেস্ক, দৈনিক ৩৬ জুলাই