বাঘায় গুলির পর দুই স্পিডবোট ভাঙচুর, খুলে নেওয়া হলো একটি বোটের ইঞ্জিন
মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বৈধ বালুমহালে চাঁদা না দেওয়ায় গভীর রাতে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। গুলি ছুঁড়ে তারা দুইটি স্পিডবোট ভাঙচুর করে এবং একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুলির শব্দে কেঁপে উঠল চরাঞ্চল
স্থানীয়রা জানান, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষীনগর এলাকায় খেয়াঘাট সংলগ্ন বালুমহাল ঘাটে গুলির শব্দ শোনা যায়। সকালে দেখা যায়, দুইটি স্পিডবোট ভাঙচুর করা হয়েছে এবং একটি বোটের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ
জানা যায়, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আওতাধীন ২৪ একর আয়তনের বালুমহালটি বাংলা ১৪৩২ সনে মেসার্স সরকার ট্রেডার্সকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাদার এসএম এখলাসের পক্ষ থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হয়।
ইজারাদারের ম্যানেজার বেলাল হোসেন জানান, “বালু নদীপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। কিন্তু মাঝপথে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে হয়। আমরা চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় এই হামলা হয়েছে বলে মনে করি।”
৩৫-৪০ জনের সশস্ত্র হামলা
স্পিডবোটের ড্রাইভার সালাম বিশ্বাস জানান, “রাতে ৩টি নৌকায় প্রায় ৩৫-৪০ জন সন্ত্রাসী আসে। তারা এলোপাথাড়ি গুলি চালায় এবং নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে দুইটি স্পিডবোট ভাঙচুর করে। একটি স্পিডবোটের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়। আমরা কেউ ভয়ে নদীর ঘাট ছেড়ে উপরে উঠে আত্মরক্ষা করি।”
একজন স্থানীয় গ্রাম পুলিশ জানান, “আমি ফাঁক দিয়ে দেখি তিনটি নৌকায় লোকজন গুলি ছুঁড়ছে। ড্রেজার মেশিনের কর্মীরা আমার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়।”
সন্ত্রাসের পেছনে 'চাঁদাবাজ বাহিনী'?
রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম সরকার অভিযোগ করেন, “বালুমহাল বৈধভাবে ইজারা নেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে লালপুরের কাকন বাহিনীর লোকজন খাল এন্টারপ্রাইজ নামে খাজনা আদায়ের স্লিপ দিয়ে চাঁদা দাবি করে। সেটি বৈধ নয়। আমরা চাঁদা না দেওয়ায় হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে।”
পুলিশ বলছে ‘দ্বন্দ্ব পুরনো’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নৌ পুলিশ ও বাঘা থানা পুলিশ। নৌ পুলিশের চারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ হুমায়ূন রশীদ বলেন, “বালু উত্তোলন বৈধভাবে হচ্ছে। উত্তোলিত বালু ঈশ্বরদীতে বিক্রি করা হয়। কিন্তু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকার কিছু লোক এতে বাধা দেয়। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই কারণেই হয়তো এমন হামলা হয়েছে।”
পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএফএম আছাদুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পর নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদটির সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন — www.daynik36july.com