নাজমুল হাসান, নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম মিয়াকে বদলি করা হলেও তিনি পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে চরম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, মো. শাহ আলম মিয়া দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নরসিংদীতেই কর্মরত। অথচ সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী একজন কর্মকর্তাকে নিয়মিত বদলি হওয়া বাধ্যতামূলক। ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে এলজিইডির সদর দপ্তর থেকে জারি হওয়া সর্বশেষ আদেশ (স্মারক নং: ৪৬.০২.০০০০.০০৩.১৮.০০৪.২১-৬৩০৬) অনুযায়ী, তাকে মেহেরপুর জেলায় বদলি করে ৩০ জুন এর মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এমনকি আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থল ত্যাগ না করলে শাহ আলম মিয়াকে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
একই আদেশে ঢাকার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মীর মাহিদুল ইসলামকে নরসিংদীতে পদায়ন করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মো. শাহ আলম মিয়া নরসিংদীতেই বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মীর মাহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব বুঝে না দিয়ে তার কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন। এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মীর মাহিদুল ইসলাম বলেন—
“আমি যোগদানের জন্য প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু শাহ আলম মিয়া দায়িত্ব বুঝে না দেওয়ায় এখনো কাজে প্রবেশ করতে পারিনি। আমি সংঘর্ষ করে দায়িত্ব নিতে চাই না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় দপ্তর দেখবে বলে আশা করছি।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহ আলম মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—
“আমি বদলির আদেশ পেয়েছি। তবে ঢাকায় প্রশিক্ষণে থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ দিতে পারিনি। স্ট্যান্ড রিলিজ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন—
“শাহ আলমের মতো একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা কীভাবে আদেশ অমান্য করে বহাল থাকতে পারেন, তা আমারও বোধগম্য নয়।”
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, শাহ আলম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে এলজিইডিতে নারী কেলেঙ্কারি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে জড়িত।
সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে, এক জায়গায় বছরের পর বছর থেকে প্রশাসনের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার এক ভয়াবহ উদাহরণ।
স্থানীয় দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে—
"এটি শুধু চাকরিবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নয়, বরং সুস্থ প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি সরাসরি হুমকি।"
তারা দ্রুত মো. শাহ আলম মিয়ার বদলি আদেশ বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।