
জগন্নাথপুরে মাদ্রাসা মোহতামিমের উপর নৃশংস নির্যাতন: চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও ন্যায়বিচারের লড়াই
নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার খাগাউড়া মাদানিয়া আমিনিয়া মহিশ্যাকোনা হাফিজিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা শরীফ উদ্দিন জিয়ার উপর সংঘটিত বর্বর হামলার ঘটনায় গোটা অঞ্চল থমকে গেছে। গত ১৮ জুন সন্ধ্যায়, নামাজরত অবস্থায় তাকে তুলে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে রশি দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন চালানো হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উঠেছে চাঁদা দাবির অভিযোগ, যার প্রেক্ষিতে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
মাওলানা শরীফ উদ্দিন জিয়া জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে একদল লোক তার কাছে চাঁদা দাবি করে। তিনি সেই দাবিতে সাড়া না দেওয়ায় প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হন। হামলার সময় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পায়ে রামদা দিয়ে আঘাত করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে ছিদ্দেক আলীর, যিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার পাশাপাশি অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে তার ছেলে মামুন সিদ্দিকী ও আরও তিন জন—কামরুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন ও জুনাইদ আহমদ। ছিদ্দেক আলীর রাজনৈতিক পরিচয় এবং অভিযুক্ত হিসেবে তার নাম ওঠায় মামলাটি এখন রাজনীতি ও প্রশাসনিক প্রভাবের গন্ধ পেতে শুরু করেছে।
পুলিশ বলেছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধছে, আদৌ কি ন্যায়বিচার হবে?
ঘটনার পরদিনই, ১৯ জুন জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধর্মীয় নেতা নামাজরত অবস্থায় যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে আমরা কেউই নিরাপদ নই।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভাইরাল ভিডিওটি এই ঘটনার উপর আলো ফেলে দেয়, প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং গণদাবিতে রূপ নেয়। এই ডিজিটাল আন্দোলনই মানববন্ধনসহ নানাবিধ প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে।
ঘটনার ভেতরে রয়েছে বহুস্তরীয় সংঘাত। চাঁদা দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে এটি নিছক একটি সহিংসতা নয়, বরং ধর্মীয় নিরাপত্তা ও নৈতিক শাসনব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
সংক্ষিপ্ত উপসংহার:
মাওলানা শরীফ উদ্দিন জিয়ার ওপর এই বর্বর হামলা কেবল একটি সহিংসতা নয়—এটি স্থানীয় শাসনব্যবস্থার গলদ, ধর্মীয় নিরাপত্তার সংকট, এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মুখোশ খুলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই অপরাধীরা কি আইনের আওতায় আসবে, নাকি প্রভাবশালীদের ছায়ায় থেকে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে?