প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি |
🕒 প্রকাশকাল: ৮ জুন, ২০২৫ |
🌐 www.daynik36july.com
বাংলাদেশের রেলপথ দীর্ঘ যাত্রার এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলেও রাতের অন্ধকারে সেটাই যেন হয়ে উঠেছে এক একটি চলন্ত কবর। দুর্বৃত্ত চক্র ‘গামছা পার্টি’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে যাত্রীদের আতঙ্কে। যমুনা টেলিভিশনের "ক্রাইম সিন" অনুষ্ঠানে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর চিত্র—ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে গত কয়েক বছরে ১৫০-এর বেশি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, যাদের অধিকাংশের পরিচয় আজও অজানা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আখাউড়া, ভৈরব, কসবা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে নরসিংদী পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে এসব লাশ পাওয়া গেছে। এগুলো অধিকাংশই পুলিশ "অজ্ঞাতনামা আত্মহত্যা" হিসেবে রেকর্ড করে, মর্গ হয়ে শেষ আশ্রয় হয় মাটির নিচে।
🔖 উদ্ধৃতি:
"লাশের জামাকাপড় ডোমরা রেলওয়ের ডোমঘরের সামনে ঝুলিয়ে রাখে, যদি পরিবার এসে চিনতে পারে!" — অনুসন্ধান রিপোর্ট
⏱️ সময় লাগে মাত্র ৯০ সেকেন্ড!
💸 লুট: ২০ টাকা, মোবাইল, ব্যাগ, এমনকি হেডফোনও!
২০১২ সালের ২ জানুয়ারি, ঢাকার খিলক্ষেত রেলগেট এলাকায় এই চক্রের হাতে খুন হতে হতে বেঁচে যান এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তুরাগ লোকাল ট্রেনে করে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর যাচ্ছিলেন তিনি।
“হঠাৎই আমার গলায় পেছন থেকে গামছা প্যাঁচিয়ে ফেলা হলো, টেনে ফেলে দেয় নিচে। এরপর শুধু মনে আছে গামছার ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মুক্ত হতে চাইছিলাম।” – ভুক্তভোগী
তার পকেটে ছিল মাত্র ১৫০ টাকা, ব্যাগে কিছু প্র্যাকটিকাল খাতা আর কাঁধে ছিল পেপার হোল্ডার। সেগুলোই হয়েছিল দুর্বৃত্তদের লক্ষ্য। উদ্ধার হওয়ার আগে তিনি চারদিন ছিলেন নিখোঁজ।
শেষমেশ পরিবারের এক সদস্য তাঁর মাথার বিরল চর্মরোগ দেখে শনাক্ত করতে সক্ষম হন ঢামেকে। সে সময় তিনি ছিলেন অচেতন, পরনে কোনো কাপড়ও ছিল না।
এই চক্রের সদস্যরা মাঝে মাঝে গ্রেপ্তার হলেও, অপর্যাপ্ত প্রমাণের কারণে জামিনে মুক্তি পায় এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
তাদের বিরুদ্ধে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকেও মামলা হয় না কারণ—
রাতের ট্রেন ভ্রমণে নিচের সতর্কতা মেনে চলুন:
✅ বগির সংযোগস্থলে একা যাবেন না।
✅ নির্জন বগিতে উঠবেন না।
✅ মোবাইল, মানিব্যাগ, দামী জিনিস লুকিয়ে রাখুন।
✅ ট্রেন ছাড়ার আগে পরিবারের কাউকে রুট জানিয়ে দিন।
✅ সন্দেহজনক কিছু দেখলে তৎক্ষণাৎ ট্রেন পুলিশকে জানান।
✅ অপরিচিত কারো সাথে ঘনিষ্ঠতা না গড়াই ভালো।
বাংলাদেশে রাতের ট্রেন সুরক্ষিত রাখতে রেলওয়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বিভাগ ও সরকারকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ক্যামেরা বসানো, অনলাইন টিকিটের সময় যাত্রী আইডি বাধ্যতামূলক করা, বগি স্ক্যানিং — এসব উদ্যোগ নেয়া গেলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে কমবে।
📢 এই প্রতিবেদনটি আপনার বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন। সচেতনতা ছড়ান, জীবন বাঁচান।
✍️ আপনিও যদি এ রকম কোনো ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন, আমাদের জানান। আমরা তুলে ধরব আপনার কণ্ঠ।
📨 ই-মেইল: report@daynik36july.com | WhatsApp: +8801616523626
ট্যাগ: #রাতেরট্রেন #গামছাপার্টি #রেলওয়ে #বাংলাদেশট্রেনক্রাইম #ক্রাইমসিন #সতর্কতা